ভেনিজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জন্ম নিলো নবজাতক

শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বেসবল মাঠে আশ্রয় নিতে ছুটে যান ৩৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এলিয়ানা গার্সিয়া। পরে সেখানেই সন্তানকে জন্ম দেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জন্ম নেয়া শিশু
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জন্ম নেয়া শিশু |সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরায় গত ২৪ জুন বিকেলে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বেসবল মাঠে আশ্রয় নিতে ছুটে যান ৩৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এলিয়ানা গার্সিয়া।

চারপাশের ভবনগুলো ধসে পড়তে থাকায়, আরো অনেকের সাথে তিনিও খোলা মাঠে আশ্রয় নেন।

প্রথমবারের মতো মা হতে যাওয়া গার্সিয়াকে চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন যে, এক সপ্তাহ পর তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের দিন নির্ধারিত। কিন্তু তার আগেই প্রসববেদনা শুরু হয়ে যায় গার্সিয়ার।

তখন ২৫ জুনের ভোররাত। চারদিকে অন্ধকার। খালি পায়ে গার্সিয়ার ভাবী জুলিয়া দি জিউসেপ্পে সাহায্য খুঁজতে বের হন।

এ সময় উপকূলীয় শহরজুড়ে চিৎকার-আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছিলেন। ভূমিকম্পে অসংখ্য স্থাপনা ধসে পড়েছিল।

জুলিয়া দি জিউসেপ্পের সাহায্যের আহ্বানে কেউ সাড়া দেননি। তিনি বেসবল মাঠে ফিরে আসেন।

৩৭ বছর বয়সী জুলিয়া বলেন, ধ্বংসস্তূপে নিজের পরিবারের সদস্যদের খুঁজছিলাম। এমন সময় এক প্যারামেডিককে আমি অনুরোধ করলে তিনি আমাকে সাহায্য করেন।

তিনি আরো বলেন, পানি ছিল না। অস্ত্রোপচারের গ্লাভসও ছিল না। জীবাণুনাশক হিসেবে ছিল শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজার। মোবাইল ফোনের অবশিষ্ট চার্জের আলোয় ওই প্যারামেডিক প্রসবে সহায়তা করেন। জন্ম নেয় এক ছেলে সন্তান।

জন্মের পর শিশুটি প্রথমে কাঁদেনি। কিন্তু উপস্থিত মানুষ হাততালি দিতে শুরু করলে হঠাৎ করেই সে কেঁদে ওঠে।

শিশুটির বাবার সাথে আলাদা হয়ে যাওয়া গার্সিয়া বলেন, এর পরের কিছুই তার মনে নেই।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে কাঁধে করে নিয়ে যান। এরপর মোটরচালিত ময়লার গাড়িতে এবং সবশেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে একটি সরকারি হাসপাতালে পৌঁছে দেন। ভূমিকম্পে আহতদের ভিড়ে চিকিৎসকেরা ব্যস্ত থাকলেও তারা গার্সিয়ার চিকিৎসা করেন।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে পুরো পরিবারকে পরে আশ্রয় দেয়া হয়।

ওই দুই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গার্সিয়ার বোন ও এক ভাতিজাও এখনো নিখোঁজ।

সূত্র: বাসস