হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০, আহত ৩০

হাইতিতে গ্যাং সদস্যদের হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং এতে আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। একটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

হাইতিতে গ্যাং সদস্যদের হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং এতে আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। একটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, হাইতির শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত আরটিবোনিত অঞ্চলের পেতিত-রিভিয়েরের কাছে এক হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৬ জন।

বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোববার ভোরে জঁ-দেনির আশেপাশের এলাকাগুলোতে এই হামলা শুরু হয় এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। গ্যাং সদস্যরা এলাকাটিতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ডিফেনসুর প্লাস মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, তাদের অনুমান অনুযায়ী এই সহিংসতায় ছয় হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ অনুমান করেছে যে, এর আগের দিনগুলোতে কাছাকাছি এলাকায় সশস্ত্র গ্যাংদের হামলার পর দুই হাজারেও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়েছিলেন।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ১৬ জন নিহত ও ১০ জন আহতের খবর দিলেও বেসামরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ১৭ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই পুরুষ।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাইতিতে সংস্থাটির কার্যালয় এসব ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানান।

‘কালেক্টিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনাইট’-এর সাথে একটি যৌথ বিবৃতিতে ডিফেনসুরস প্লাস বলেছে, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে আর্টিবোনাইটকে ছেড়ে দেয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের সম্পূর্ণ অবহেলাকেই প্রমাণ করে।’

আর্টিবোনাইট অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকা। কিন্তু হাইতির সবচেয়ে ভয়াবহ কিছু সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে এই অঞ্চল। আরো কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা এবং হাইতির নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আরো বিদেশী সহায়তার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, গ্যাং সংঘাত রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা