ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের সেনাপ্রধান

বিশেষজ্ঞ ও সামরিক কর্তারা জানান, শুধু আকাশপথের শক্তির সীমা রয়েছে। পাশাপাশি লাগাতার যুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে উপসাগরীয় মিত্রদের আকাশ সুরক্ষা দেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন |সংগৃহীত

ইচ্ছামতো সামরিক হামলা চালিয়ে ইরান যুদ্ধের মূল লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন সম্মানজনকভাবে এই লড়াই থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা ও যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন অন্যান্য শীর্ষ মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় গোপনে এমন স্পষ্ট অভিমত দিয়েছেন। মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন শনিবার (৮ আগস্ট) বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর কেইন ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বুঝিয়েছেন, শুধু আকাশপথে বোমা বর্ষণ করে ইরানকে নতিস্বীকার করানো বা পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যাবে না। বড় কোনো হামলা চালালে উল্টো ফল হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সামরিক কৌশলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলাদা আলোচনা করেছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানে পদাতিক বা স্থলসেনা পাঠানোর বিরুদ্ধে। তিনি ভেবেছিলেন কেবল বিমান হামলা চালিয়েই তেহরানকে নিজের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবেন। তবে কেবল বিমান হামলা যে যথেষ্ট নয়, কেইন তা সরাসরি স্বীকার করেছেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও বড় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জেনারেল কেইনসহ একাধিক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিডল ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো ইরানি পাল্টা হামলার ভয় পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রস্তাবিত 'বিশাল' অভিযান থেকে পিছিয়ে আসেন।

বিশেষজ্ঞ ও সামরিক কর্তারা জানান, শুধু আকাশপথের শক্তির সীমা রয়েছে। পাশাপাশি লাগাতার যুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে উপসাগরীয় মিত্রদের আকাশ সুরক্ষা দেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা ব্রিজে আঘাতের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি কেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালায়, তবে বিশ্ববাজারে বড় বিপর্যয় ঘটবে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষোভ এড়াতে এবং সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে জেনারেল কেইন অত্যন্ত সতর্ক কৌশল নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টকে সরাসরি না চটিয়ে তিনি একদিকে অস্ত্র ভাণ্ডারের ঘাটতির কথা স্মরণ করাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে বলছেন ট্রাম্প চাইলে আমেরিকা এখনো বড় হামলা চালাতে সক্ষম। মূলত যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় এসে মার্কিন সেন্টকম (পেন্টাগনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কমান্ড) এখন অপ্রচলিত উপায়ে ইরানকে সামলানোর নতুন নতুন বুদ্ধি খুঁজছে। এ ধরনের তৎপরতা মার্কিন পরিকল্পনার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রশাসন সূত্র মতে, এই যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে জিততে হলে মার্কিন স্থলসেনা পাঠাতে হবে, যাতে হাজার হাজার আমেরিকান প্রাণ হারাতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসন এখন সে পথে হাঁটতে নারাজ। এই বাস্তবতায় ট্রাম্পকে অন্তত একটি 'প্রতীকী জয়' দেখিয়ে কীভাবে কূটনীতির পথে ফেরানো যায়, সেই উপায়ই খুঁজছেন ড্যান কেইন। তাদের প্রথম লক্ষ্য হলো সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যেন আবার বাণিজ্য চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যায়।