রাশিয়ান তেল আমদানিকারদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

ইউক্রেনের সাথে রাশিয়া শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে রুশ পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইউক্রেনে নতুন অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন এবং রাশিয়া যদি শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে রুশ পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। প্রতিবেশ দেশ ইউক্রেনের ওপর মস্কোর চলমান আক্রমণের প্রতি হতাশার কারণে তার এই নীতিগত পরিবর্তন এসেছে।

তবে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। যা রাশিয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে। এতে রাশিয়ান মুদ্রা রুবলের দরপতন রোধ হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওভাল অফিসে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সাথে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর হতাশ। এ সময় তিনি ইউক্রেনের জন্য বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র সহায়তা ঘোষণা করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা উন্নতমানের অস্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছি, এবং সেগুলো ন্যাটোতে পাঠানো হবে।’ ওয়াশিংটনের ন্যাটো মিত্ররা এই অস্ত্র সহায়তার খরচ বহন করবে বলে জানান তিনি। অস্ত্রের মধ্যে থাকবে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রও থাকবে যা ইউক্রেন জরুরিভাবে চেয়েছে।

রাশিয়ার ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্পের হুমকি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারা এমন একটি বিলের জন্য চাপ দিচ্ছেন, যা রাশিয়ার থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমোদন দেবে।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের সময় পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর সাথে তাদের বেশিভাগ আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, কিন্তু রাশিয়াকে অন্যত্র তেল বিক্রি করতে বাধা দেয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে। এর ফলে মস্কো চীন ও ভারতের মতো ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রি করে কয়েকশ বিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প রুশ পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রুশ পণ্য ক্রয়কারী অন্যান্য দেশের ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে মার্কিন সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৮৫ জন একটি বিল সমর্থন করছেন, যা ট্রাম্পকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এমন দেশগুলোর ওপর যারা রাশিয়াকে সাহায্য করছে।