মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করেই নিউইয়র্কে যাবেন নেতানিয়াহু

এর আগে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে গ্রেফতার করা উচিত। তবে সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট করেছেন, নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেফতারের ক্ষমতা তার নেই।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সাথে মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মঞ্চে গিয়ে সত্য তুলে ধরব। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের পক্ষে কথা বলব।’

এর আগে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে গ্রেফতার করা উচিত। তবে সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট করেছেন, নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেফতারের ক্ষমতা তার নেই।

নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন। ইসরাইলপন্থী মহলও মামদানির ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তুলে ধরা চেষ্টা করছে।

তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর অভিযোগের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের মধ্যে মামদানির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে ৪৪ শতাংশের। বিপরীতে নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে দেখেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি প্রাপ্তবয়স্ক। প্রায় ৬০ শতাংশের রয়েছে নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমেছে। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

এদিকে, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলা মামদানি, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ‘উদযাপন’ করেছিলেন। তবে মামদানি বরাবরই ওই হামলার নিন্দা করে আসছেন এবং এটিকে ‘ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সাম্প্রতিক এক ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা উচিত। বিপরীতে ২৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি