মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাস

হাউসের স্পিকার মাইক জনসন এতে স্বাক্ষর করেছেন। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পরই এটি আইনে পরিণত হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
৩ জুলাই হাউসের স্পিকার মাইক জনসন বিলে স্বাক্ষর করেন
৩ জুলাই হাউসের স্পিকার মাইক জনসন বিলে স্বাক্ষর করেন |সংগৃহীত

প্রায় ২৯ ঘন্টা বিতর্কের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ কংগ্রেসে পাস হয়েছে। কর হ্রাস ও সরকারি ব্যয়ে বড় ধরনের রদবদল আনার এ বিলকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রস্তাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৮–২১৪ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। হাউসের স্পিকার মাইক জনসন এতে স্বাক্ষর করেছেন। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পরই এটি আইনে পরিণত হবে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দলের সদস্যদের ৪ জুলাই, দেশের স্বাধীনতা দিবসের আগে আইনটি পাস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাট দলের ২১২ জন প্রতিনিধি বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তাদের সাথে যোগ দেন রিপাবলিকান পার্টির দুই সদস্য কেন্টাকির প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি ও পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক।

নতুন এই আইনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার ঋণসীমা পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়াতে পারবে। বিলটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ট্রাম্পের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল। একইসাথে এটি ২০১৭ সালের ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার করছাড় স্থায়ী করবে।

তবে এই ব্যয়ভার বহনের জন্য সমাজসেবামূলক প্রকল্পগুলোর বাজেট কমানো হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকএইড’ এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘স্ন্যাপ’-এর বাজেট কমানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্দলীয় কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস অনুমান করছে, এই বিলের কারণে আগামী ১০ বছরে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাবে। একইসাথে দেশটির বাজেট ঘাটতি ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা বিলটির সমালোচনা করে বলেন, কর হ্রাস মূলত সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের উপকার করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, বিলটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং মেডিকএইডের মতো প্রকল্পে অপচয় ও দুর্নীতি কমাবে।

তবে বিলটি শুরুতে রিপাবলিকানদের ভেতর থেকেই কিছুটা বিরোধিতার মুখে পড়ে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মেডিকএইডে কাটছাঁটের ফলে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার কিছু কঠোর বাজেটপন্থী এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঋণের পরিমাণ বাড়বে বলেও আপত্তি তোলেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ধনকুবের ইলন মাস্কও বিলটির কঠোর সমালোচনা করে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন।

সূত্র : আল জাজিরা