মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার পুনরায় চালু করার ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি তহবিল বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান শাটডাউন শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ওভাল অফিসে বিলে স্বাক্ষর করার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প বলেছেন, এটি একটি দুর্দান্ত দিন। যুক্তরাষ্ট্র এর চেয়ে ভালো অবস্থায় কখনোই ছিল না।
এই বিলের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা কাজে ফিরবেন, ফেডারেল সংস্থা, কর্মসূচি ও বিভাগগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ পুনরায় চালু হবে এবং যারা ১ অক্টোবর থেকে বেতন পাচ্ছিলেন না এমন হাজার হাজার কর্মী তাদের বকেয়া বেতন ফেরত পাবেন।
এবারের শাটডাউন টানা ৪৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। যা আগের রেকর্ড ৩৫ দিনের চেয়েও বেশি। সেই রেকর্ডটিও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হয়েছিল।
শাটডাউনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্যদের ভোট দেয়ার সময় এই মুহূর্তটি মনে রাখেন।
নির্বাচন হতে যদিও এখনো এক বছর বাকি, ট্রাম্প রিপাবলিকানদের উৎসাহ দিচ্ছেন যেন তারা কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন নাগরিকদের বলতে চাই, মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আপনাদের এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকদের কষ্টে ডেমোক্রেটরা খুশি হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ডেমোক্রেটরা স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি চাইলে ‘আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার সত্যিই ক্ষতি হতো’। তিনি এই শাটডাউনকে ‘চাঁদাবাজি’ বলে অভিহিত করে বলেন, ডেমোক্রেটরা চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করেছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণেই এই শাটডাউন হয়েছে।
সরকার পুনরায় চালু হওয়ার সাথে সাথে কিছু ফেডারেল কর্মচারী ও ঠিকাদাররা বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই কাজে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ৪৩ দিনের দীর্ঘ বন্ধের সম্পূর্ণ প্রভাব এখনো কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন নাগরিকদের ওপর পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি



