পেরুতে পর্যটন বিমান বিধ্বস্ত : ১৩ আরোহীর সবাই নিহত

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পেরুর মরুভূমির বুকে বিশাল আকৃতির যে নকশাগুলো ছড়িয়ে আছে, তা ‘নাসকা লাইন্স’ নামে পরিচিত। প্রায় ১,৬০০ বছর আগে প্রাচীন নাসকা সংস্কৃতির মানুষ অত্যন্ত নিপুণভাবে বালির ওপর এসব অতিকায় জ্যামিতিক ও পশুপাখির রূপরেখা এঁকেছিল।
পেরুর মরুভূমির বুকে বিশাল আকৃতির যে নকশাগুলো ছড়িয়ে আছে, তা ‘নাসকা লাইন্স’ নামে পরিচিত। প্রায় ১,৬০০ বছর আগে প্রাচীন নাসকা সংস্কৃতির মানুষ অত্যন্ত নিপুণভাবে বালির ওপর এসব অতিকায় জ্যামিতিক ও পশুপাখির রূপরেখা এঁকেছিল। |সংগৃহীত

পেরুর বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা নাসকা লাইন্সের ওপর একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ আরোহির সবাই মারা গেছেন। রোববার (২ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১১ জন পর্যটক এবং ২ জন পাইলট ছিলেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্যমতে, পর্যটকদের মধ্যে ২ জন জার্মান, ২ জন স্প্যানিশ এবং ৭ জন ইতালীয় নাগরিক। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

'সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮' মডেলের বিমানটি পেরুর পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টার দিকে পুয়েবলো ভিএহো অঞ্চলে বিমানটি ভেঙে পড়ে। পুলিশ মেজর হোর্হে আন্দ্রেদে জানান, 'মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে বিমান আরোহীর কেউ বেঁচে নেই।' এ পর্যন্ত পুলিশ ৪টি লাশ উদ্ধার করেছে।

নাসকা লাইন্স দক্ষিণ পেরুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ ও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কেন্দ্র। প্রায় ১,৬০০ বছর আগে নাসকা সংস্কৃতির মানুষ মরুভূমির বালিতে প্রকাণ্ড পশুপাখির ছবিগুলো এঁকেছিল। এসব দৃশ্য দেখতে পর্যটকরা প্রায়ই ছোট বিমানে করে আকাশপথে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করে।

বিধ্বস্ত বিমানটি পেরুর স্থানীয় বিমান সংস্থা 'অ্যারোডিয়ানা'র। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় নাসকা পৌর কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করে স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। অন্যদিকে বিমান সংস্থাটি জানায়, তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে ফ্লাইট সূচি আবার বিবেচনা করবে।

এই বিখ্যাত স্থানে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালেও নাসকা লাইন্সের ওপর একটি পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্তে ৭ জন মারা যান। তারও আগে ২০১০ সালে একইভাবে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।