যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত, মৃত্যু ৩০

ভয়াবহ শীতকালীন তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও সড়ক যোগাযোগে বিপর্যয় নেমে এসেছে; তীব্র ঠান্ডা ও দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ছবিটি নিউইয়র্কের একটি এলাকার
তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ছবিটি নিউইয়র্কের একটি এলাকার |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শীতকালীন তুষার ঝড়ের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল কিংবা বিলম্বিত হয়েছে। তুষারঝড় ও তীব্র শীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে কয়েকজন সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায়। ভয়াবহ ঠান্ডায় দীর্ঘ সময় কাটালে তীব্র কাঁপুনি, পানিশূন্যতাসহ অন্যান্য যেসব শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়- সেসব উপসর্গের সমষ্টিকে হাইপোথার্মিয়া বলে।

সপ্তাহের শেষে এই ঝড় টেক্সাস থেকে শুরু করে মেইন পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়েছে, যার ফলে অনেক জায়গায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বড় বড় শহর ঘন তুষারে ঢেকে যায়।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় ২০ ইঞ্চির মতো তুষারপাত হয়েছে।

ওদিকে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই শীতকালীন বা তুষার ঝড়ের কারণে দক্ষিণ অন্টারিওতে জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সপ্তাহের শেষেও যুক্তরাষ্ট্রের আবারো শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত টেনেসিতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। শহরের বাসিন্দারা প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে অন্ধকারে দিন কাটাতে বাধ্য হন।

নাশভিলে রেসকিউ মিশন হোমসের শেল্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জয় ফ্লোরেস বলেন, ‘অনেক গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়েছে। বিদ্যুতের তারের কারণেও অনেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।’

এদিকে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনগুলোতে ১৯ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এরপরেও শিগগিরই স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই আবারো শীতকালীন একটি তুষারঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি