যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গাড়ি থামানোর চেষ্টার সময় এক মেক্সিকান নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগের এক ফেডারেল অ্যাজেন্ট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএইচএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার ভোরে হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা লরেঞ্জো সালগাদোর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ডিএইচএসের দাবি, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সালগাদো একটি আইসিই পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেন, কর্মকর্তাদের দেয়া একাধিক মৌখিক নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং এক আইসিই কর্মকর্তাকে গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি চালান।
গুলিবিদ্ধ সালগাদোকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
সালগাদোর ছেলে রোনাল্ডো সালগাদো ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তার ‘পরিশ্রমী মেক্সিকান’ বাবা নির্মাণকাজে যাওয়ার পথেই নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবার প্রতি এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আমার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমার, আমার দুই ভাই এবং আমার মায়ের ভরণপোষণের জন্য এদেশে নির্মাণকাজ করে আসছিলেন।’
ডিএইচএস জানিয়েছে, এক ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ওপর সম্ভাব্য হামলার ঘটনা তদন্ত করবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে পৃথক দু’টি ঘটনায় মার্কিন নাগরিক রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের জড়িত এটাই প্রথম প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা।
ওই দুই ঘটনায় ফেডারেল কর্মকর্তারা শুরুতে দাবি করেছিলেন, গুড ও প্রেট্টি তাদের জন্য হুমকি ছিলেন এবং তাদের মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী। তবে পরে প্রকাশিত ভিডিওতে এসব দাবির বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় ফেডারেল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সূত্র: বাসস



