ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা ব্যর্থ হলে ভারতের ওপর আরো শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতীয়দের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছি। যদি আলোচনার ফল ভালো না হয়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্ক আরও বাড়তে পারে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |সংগৃহীত

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের ওপর আরো শুল্ক বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের ফলাফলের ওপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, বুধবার তিনি ব্লুমবার্গ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতীয়দের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছি। যদি আলোচনার ফল ভালো না হয়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্ক আরও বাড়তে পারে।’

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। যা বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্কের সাথে যোগ হয়েছে। ফলে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মস্কো যদি শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয় তবে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। আজ শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন ট্রাম্প, সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা হবে।

বেসেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাক্ষাৎ করছেন, আর ইউরোপীয়রা বলে যাচ্ছে, কিভাবে ও কী করা উচিত। ইউরোপীয়দের উচিত এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের সাথে যোগ দেয়া।’

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সস্তা রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ভারত। এতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনাও ব্যাহত হয়েছে। ২০২১ সালে ভারতের তেল আমদানিতে রুশ তেলের অংশ ছিল মাত্র তিন শতাংশ। সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে।

দিল্লি রাশিয়ার তেল ক্রয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে দরিদ্র জনগণকে বাড়তি খরচ থেকে বাঁচাতে তাদের সবচেয়ে সস্তা অপরিশোধিত তেল কেনা ছাড়া উপায় নেই।