চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। আজ শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, একটি সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক ৬ মিনিটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পর নভোচারীরা সফলভাবে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করেন। চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ শেষে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে নভোচারীদের চাঁদে যাওয়া ও ফিরে আসার ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল (১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৯ কিলোমিটার) দীর্ঘ যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল চাঁদ প্রদক্ষিণের সময় মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে তার সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার (২ লাখ ২ হাজার ৭৫৬ মাইল) দূরত্বে পৌঁছায়, যা মহাকাশে মানুষের ভ্রমণের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দেয়।
এই মিশনে অংশ নেয়া চার নভোচারী হলেন- রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিসটিনা কোচ ও জেরেমি হেনসেন। তাদের এই অভিযান ভবিষ্যতে চাঁদে মানব উপস্থিতি ও মঙ্গল গ্রহে যাত্রার পথ প্রস্তুত করবে।

নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিক্যাল বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জাহাজে হেলিকপ্টার প্যাড, চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে। চিকিৎসকেরা নভোচারীদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। পরে তাঁদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
সমুদ্রে অবতরণের কিছু সময় পর নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নেওয়া হয়। এটিকে বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হয়।
চার নভোচারী বের হয়ে নৌযানে ওঠার পর হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত থাকা সবাই হাততালি দেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নিরাপদে অবতরণের পর নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ক্যাপসুলের অবস্থান ও নভোচারী দলের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বলেছেন, ‘আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি।’
অন্যদিকে নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নভোচারী দলের সফল অবতরণের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমরা আবারও নভোচারীদের চাঁদে পাঠানো এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজে ফিরে এসেছি। এটি কেবলমাত্র শুরু।’
এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১০ দিনের সময়সীমা থাকলেও নাসা বলছে, ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই এই অভিযান শেষ হলো। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।
মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।



