ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের হাই-প্রোফাইল নেতারাই এখন মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করছেন। আল জাজিরা বুধবার (৮ জুলাই) জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এই নতুন হামলার প্রথম দিককার তীব্র সমালোচনাগুলো এসেছে ট্রাম্পের একান্ত অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই সাবেক নেতাদের কাছ থেকেই।
রিপাবলিকান দলের সাবেক আইনপ্রণেতা এবং ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক মার্জরি টেলর গ্রিন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন প্রশাসন যখন আগেই দাবি করেছে যে তারা ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাহলে এখন আবার কেন দেশটিতে বোমা ফেলতে হচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, 'ইরান যুদ্ধের তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আমরা আবার সেখানে বোমা ফেলা শুরু করেছি। অথচ এই যুদ্ধটাকে অফিসিয়ালি যুদ্ধও বলা হচ্ছে না! কারণ ইরান নাকি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় একটি জাহাজে বোমা মেরেছে। যে প্রণালীর ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা নয়, অথচ দেখা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ ঠিকই আছে।'
ব্যঙ্গাত্মক সুরে গ্রিন আরো লিখেছেন, “আমি সত্যি খুব আনন্দিত যে ট্রাম্প চিরকালের জন্য এসব বিদেশী যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিলেন। তা না হলে আমার মনে হতো যে যুদ্ধটাকে আমরা অন্তত ৪০ বার জিতেছি এবং যাকে যুদ্ধই বলা হচ্ছে না, তা আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অন্তহীন বিদেশী যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে।”
অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট বলেছেন, এই হামলা প্রমাণ করে ইরানের সাথে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) কার্যত বানচাল হয়ে গেছে। এক্সে তিনি লিখেছেন, 'হরমুজ প্রণালী সঙ্কটের একটি সামরিক সমাধান খোঁজার পুরনো চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে গেছি।” পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে কেন্ট বলেন, 'আসল সমস্যা হলো, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই দেখেই ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারক সই করেছিল এবং যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাখা দরকার ছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই পথ থেকে পুরোপুরি সরে আসা।'
সূত্র: আল জাজিরা


