‘গণহত্যা’র ভিডিও দেখিয়ে রামাফোসাকে হঠাৎ আক্রমণ ট্রাম্পের

ট্রাম্প ভিডিও দেখিয়ে রামাফোসাকে বলেন, ‘তারা শ্বেতাঙ্গ কৃষক, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে- এটা খুবই দুঃখজনক দৃশ্য। আশা করি এর ব্যাখ্যা পাব।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে এক বিতর্কিত ভিডিও দেখিয়ে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তুলেছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে চালানো ভিডিওটি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হচ্ছে, ফলে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির সূত্রে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বাসস।

ট্রাম্প ভিডিও দেখিয়ে রামাফোসাকে বলেন, ‘তারা শ্বেতাঙ্গ কৃষক, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে- এটা খুবই দুঃখজনক দৃশ্য। আশা করি এর ব্যাখ্যা পাব। কারণ আমি জানি আপনি এটা চান না।’

ওভাল অফিসের সেই বৈঠকে রামাফোসা বারবার কথা বলতে চাইলেও ট্রাম্প তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে রামাফোসা অনুরোধ করে বলেন, ’আমরা চাই শান্তভাবে বসে আলোচনা হোক।’

তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার শিক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংকট হলে মানুষকে টেবিলে বসে আলাপ করতে হয়।’

রামাফোসার এ সফরকে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কে টানাপড়েন মেরামতের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে ট্রাম্প ও তার সহযোগী ইলন মাস্ক দু’জনেই দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে এমন দাবি করে আসছিলেন। অবশ্য এর কোনো প্রমাণ নেই।

ওভাল অফিসের বৈঠকে রামাফোসার সাথে ছিলেন দুই কিংবদন্তি গলফার এরনি এলস ও রেটিফ গুসেন এবং ধনকুবের জোহান রুপার্ট। ধারণা করা হচ্ছে, গলফপ্রেমী ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতেই এই প্রতিনিধির অংশ হিসেবে তাদের নেয়া হয়েছে।

সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিষেবা দক্ষিণ আফ্রিকায় চালু করার জন্য প্রস্তাব দেয়া। মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, দেশটির ‘বর্ণবাদী’ আইন স্টারলিংকের লাইসেন্স প্রাপ্তিতে বাধা দিচ্ছে, যা মূলত কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের ক্ষমতায়নের আইন।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার একাধিক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যা মামলা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা নিয়ে ক্ষোভ, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশী সাহায্য হ্রাস, ৩১ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ এবং সর্বশেষ ভূমি পুনরুদ্ধার আইন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা।

জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি ভূমি পুনর্বণ্টন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ শাসনামলের জমির বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এ আইন শ্বেতাঙ্গ মালিকানাধীন জমি জবরদস্তিমূলকভাবে ছিনিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানারদের কিছু গোষ্ঠী দাবি করে আসছে, শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের তথ্য বলছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি হত্যা করা হচ্ছে শহরাঞ্চলের তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের।

উল্লেখ্য, সফরের কয়েকদিন আগেই প্রায় ৫০ জন শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘আশ্রয়’ গ্রহণ করে প্রবেশ করেছেন, যা অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের কড়াকড়ির পরিপ্রেক্ষিতে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।