হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিনিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা নাও হতে পারে

হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া একটি জাহাজ থেকে সরিয়ে আনা মার্কিন যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া জাহাজটি
হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া জাহাজটি |সংগৃহীত

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া একটি জাহাজ থেকে সরিয়ে আনা মার্কিন যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

রোববার (১০ মে) মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জয় ভট্টাচার্য বলেন, হান্টাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ‘এটি কোভিড নয়’।

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার জানায়, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা ১৭ জন মার্কিন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আরো কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে।

সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে জয় ভট্টাচার্য বলেন, উপসর্গহীন ওই মার্কিন যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নেয়া হবে। তবে সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে, এমন নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে কথা বলব এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন করব। তারা উপসর্গ থাকা কারো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন কি-না, সেটিও দেখা হবে।’

যাত্রীদের জন্যে নেব্রাস্কা মেডিক্যাল সেন্টারের জীবাণু-নিয়ন্ত্রণ বিশেষ ইউনিট আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র কায়লা থমাস এক বিবৃতিতে জানান, যাত্রীদের সোমবার ভোরে ওমাহায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ঝুঁকি মূল্যায়নের পর পরিস্থিতি অনুযায়ী যাত্রীদের নেব্রাস্কায় থাকার অনুমতি দেয়া হতে পারে। আবার কেউ বাড়ি ফিরতে চাইলে এবং তার বাসার পরিস্থিতি উপযোগী হলে, অন্যদের ঝুঁকিতে না ফেলে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান জয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, যাত্রীদের কয়েক সপ্তাহ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয় কি-না। কারণ সফরের শুরুর দিকে জাহাজ ছাড়ার পর আরো সাত মার্কিন নাগরিকের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত উপসর্গ দেখা দেয়ার পরই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারেন।

জয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৮ সালে একই ধরনের হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ও একই প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল। তখন সেটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

কোভিড-১৯ মহামারির ছয় বছর পরও হান্টাভাইরাস ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সীমিত যোগাযোগের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, দুই পরিস্থিতি এক নয়।

তিনি বলেন, ’হুমকির মাত্রা বেশি হলে আমরা অবশ্যই ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতাম। এটি কোভিড নয়। আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।’

সূত্র: বাসস