একই দিনে নেতানিয়াহু ও জেলেনস্কির সাথে পৃথক বৈঠকে ট্রাম্প

বৈঠকের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'খুব ভালো একটি বৈঠক হয়েছে!'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প,  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভলোদিমির জেলেনস্কি
ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভলোদিমির জেলেনস্কি |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার পর পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে এই আলোচনার খবর।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটিই ছিল নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। রুদ্ধদ্বার এ আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র না পায়। সংবেদনশীল এই বিষয়টি বাদেও লেবাননের চুক্তি বাস্তবায়ন, গাজা পুনর্গঠন ও আব্রাহাম চুক্তি প্রসারের ইস্যু উঠে আসে।

বৈঠকের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'খুব ভালো একটি বৈঠক হয়েছে!' অন্যদিকে নেতানিয়াহু ভিডিও বার্তায় বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে এটি আমার অন্যতম সেরা কথা। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র না পায়।' সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুকে 'খ্যাপাটে' বলে মন্তব্য করলেও এই আলোচনার পর দুই নেতার মধ্যে বিরাজমান টানাপোড়েন হ্রাসের বার্তা পাওয়া গেছে। ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, দুদেশের সম্পর্কে কোনো ফাটল নেই—তা ইরানকে দেখানোটাই ছিল নেতানিয়াহুর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

একই দিনে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও। বৈঠকে ইউক্রেন যাতে নিজস্ব কারখানায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে পারে, সে সংক্রান্ত লাইসেন্স সুবিধা নিয়ে কথা বলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, 'কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।'

বৈঠকে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক পরলোকগত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শোক প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। এ বৈঠকের পরপরই মার্কিন সিনেটে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন ও অনুমোদন দেয়া হয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে থমথমে পরিস্থিতি। এএফপি জানায়, মঙ্গলবার লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হাউসি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়ার বিরুদ্ধেও সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার খবর মিলেছে।

জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলি দূত ড্যানি দানন দাবি করেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক ছিল অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে এক বড় পদক্ষেপ। চলতি বছরেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন থাকায় নিজ নিজ রাজনৈতিক চাপ থেকেই তারা দুই বন্ধুদেশ আবার এক ছাদের নিচে বসতে বাধ্য হলো।