আমদানিকৃত ড্রোনে শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আমদানি করা ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |ফাইল ছবি

চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আমদানি করা ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেয়া এক ঘোষণায় হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ড্রোন আমদানিতে শতভাগ শুল্ক বসবে।

যেসব ড্রোনের উড্ডয়ন ওজন ২৫ কেজির বেশি এবং থার্মাল ক্যামেরা ও ডকিং স্টেশনের মতো জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ছোট ড্রোনের ক্ষেত্রে শুল্ক হবে ২৫ শতাংশ।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব শুল্কের ফলে দেশীয়ভাবে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়বে এবং বিদেশী সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে।

নতুন এই শুল্কের বেশিভাগই আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্লেটন সোয়োপ বলেন, ‘এই শুল্ক মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ড্রোনকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় শখের কাজে ব্যবহৃত ছোট ড্রোনও এর আওতায় পড়বে।’

দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) বলেছিল, দেশে ড্রোন উৎপাদন বাড়ালে সরাসরি ড্রোন হামলা, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, অনুমোদনহীন নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য ড্রোন-সম্পর্কিত হুমকি কমানো সম্ভব হবে।

এফসিসি আরো বলেছিল, ড্রোন ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ এগুলো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক বা আধাসামরিক পর্যবেক্ষণ এবং অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিদেশে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি, তথ্য চুরি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল এফসিসি।

ইউক্রেনের যুদ্ধ এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক ও শখের কাজে ব্যবহৃত ড্রোনগুলোকে কিভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা জন্য ব্যবহার করা যায়।

চীনের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের ড্রোন বাজারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দখল করেছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে ওয়াশিংটনের নজরদারিতে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, চীনে বিশেষ করে উইঘুরদের ওপর নজরদারিতে ডিজেআইয়ের পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২২ সাল থেকে ডিজেআই এমন একটি মার্কিন তালিকায় রয়েছে, যেখানে চীনের সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম রয়েছে। ফলে মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালে ডিজেআই ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ চীনের সামরিক বাহিনীর হাতে নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা ও সরবরাহব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ জোশুয়া স্টেইনম্যান বলেন, ‘চীনের কোনো যন্ত্রাংশ, এমনকি কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ড্রোন তৈরি করতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা
গত সপ্তাহে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয় এবং ছয়টি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। জোরপূর্বক শ্রম ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের আরোপ করা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং এ পদক্ষেপ নেয়।

এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ ৫৯টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছিল।

এদিকে, চলতি বছর জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মানবসদৃশ ও চার পায়ে চলা রোবটকেও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও কোম্পানির কালো তালিকায় যুক্ত করেছে। ওয়াশিংটন বলেছে, এসব প্রযুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

ড্রোনের মতো রোবট তৈরির ক্ষেত্রেও চীনা শিল্পের প্রাধান্য রয়েছে।

সূত্র: বাসস