যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন তিনি। যদিও এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি-না, তা নিয়ে তিনি শুরুতেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ইরান এই প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা, নৌ অবরোধ তুলে নেয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামানোর দাবি জানিয়েছে। ইরানের এ প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নয় দফার পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, গত ৪৭ বছরে ইরান যা করেছে তার জন্য তাদের এখনো যথেষ্ট চড়া মূল্য দিতে হয়নি। এমনকি ইরান যদি কোনো ‘ভুল’ করে, তবে তাদের ওপর আবারো বড় ধরনের হামলা চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যখন এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই লেবাননের সাধারণ মানুষের ওপর ইসরাইলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
ইরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দেয়া, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়া এবং বিদেশে জব্দ করা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়া। ওয়াশিংটন চুক্তির জন্য দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান জানিয়েছে যে, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি বলছে, তেহরান এখন কেবল সাময়িক বিরতি নয় বরং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের ওপর চেপে বসা যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে চাইছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান বর্তমানে চরম সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তারা এখন চুক্তি করতে চায়। তার মতে, ইরানের আগের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্ব এখন টালমাটাল এবং তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না তাদের প্রধান কে।
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প ইসরাইলের আগ্রাসনকে আড়াল করে উল্টো ইরানের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের অবাধ্য হয়, তবে আবারো সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
তেহরান ৩০ দিনের মধ্যে সব অবরোধ আর যুদ্ধের অবসান চাইছে, তবে ট্রাম্পের হুমকি এই অঞ্চলে শান্তির পথকে কতটা মসৃণ হতে দেবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



