মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় রাখার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়ার পর হোয়াইট হাউস আবারো আগের নাম ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার সূত্রে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের সবচেয়ে বড় এই দফতরের নাম পরিবর্তন করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিকল্প উপায়ে এটি কার্যকর করার পথও খুঁজছে হোয়াইট হাউস। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টুব এই পরিবর্তনের পক্ষে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের একটি সংশোধনী দাখিল করেছেন। যা প্রমাণ করে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই ধারণার প্রতি সমর্থন রয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি জোর দিয়েছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন।
গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে আবারো ‘যুদ্ধ বিভাগ’ হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ‘এটি আমার কাছে আরো ভালো শোনাচ্ছে। এটিকে আগে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় বলা হতো এবং একে আরো শক্তিশালী শোনাত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিরক্ষা চাই, কিন্তু আমরা আক্রমণও চাই। যখন এটি যুদ্ধ মন্ত্রণালয় ছিল, আমরা সব যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আমার মনে হয়, আমাদের আবার সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।’
যুদ্ধ বিভাগটি ধীরে ধীরে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিভাগে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একীভূত করে ন্যাশনাল মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট গঠন করে। পরে ১৯৪৯ সালে আইনের সংশোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স নাম চালু হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর আরো আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য কাজ করছেন ট্রাম্প ও তার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। একইসাথে তারা আরো কিছু পরিবর্তন আনছেন, যার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন শীর্ষ সামরিক নেতাদের অপসারণ।
সূত্র : টিআরটি গ্লোবাল



