যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তরণ নিয়ে প্রথম দিনের সংলাপ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানী কারাকাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত বার্তাসংস্থা এএফপির একজন আলোকচিত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার সাত মাস পর এই সংলাপ শুরু হলো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় তত্ত্বাবধানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশ পরিচালনা করছেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা ভেনিজুয়েলার জনগণের আশা, এই সংলাপের মাধ্যমে দেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তৈরি হবে।
তবে আলোচনায় অনুপস্থিত রয়েছেন বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তিনি বর্তমানে নির্বাসনে আছেন এবং তাকে এই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিরোধী দলের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন দিনোরাহ ফিগুয়েরা। তিনি বুধবার নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন।
ফিগুয়েরা সেই বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ওই নির্বাচনই ছিল সর্বশেষ, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
অন্যদিকে, সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ। তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই।
বিমানবন্দরে পৌঁছে ফিগুয়েরা টিভি স্টেশন টেলেভেনকে বলেন, ‘এই সংলাপ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা আমাদের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় নির্বাচন পরিষদে সংস্কার আনা জরুরি। বিরোধী দল ওই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের বিজয় দাবি করেছিল এবং ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল।
প্রথম দিনের বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং ভেনিজুয়েলার সঙ্কটের রাজনৈতিক, শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।
সূত্র: বাসস



