দক্ষিণ চিলির বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন দাবানল ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সব দাবানলে সব কিছু পুড়ে গেছে এবং গতকাল রোববার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১৯ জনে পৌঁছেছে। যার ফলে কর্র্তৃপক্ষ ওই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
বাতাস ও গরম আবহাওয়ার কারণে ছড়িয়ে পড়া আগুনে রাজধানী সান্তিয়াগোর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল) দক্ষিণে নুবলে ও বিওবিও অঞ্চলে গত দু’দিন ধরে দাবানল জ্বলছে। এতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
পেনকোর ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাতিয়াস সিদ বলেন, রাত ২টা ৩০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিবাতাস শহরের আশপাশোর নিচু এলাকার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরনে থাকা কাপড় ছাড়া আর কিছুই সাথে নেয়ার সুযোগ ছিল না। আর ২০ মিনিট দেরি করলে আমরা পুড়ে মারা যেতাম।’
এই ঘটনার পর এক ভিডিওতে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর ও পিকআপ ট্রাকসহ জনশূন্য এক ভয়াবহ নগরচিত্র দেখা যায়।
এলাকায় ঘটে যাওয়া দাবানলে এখন পর্যন্ত বেশিভাগ প্রাণহানি পেনকোতেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র রদ্রিগো ভেরা।
পার্শ্ববর্তী লিরকেন শহর প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাসকারী একটি ছোট বন্দরনগরী। এর বাসিন্দারা জানান, আগুন ‘মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই’ ছড়িয়ে পড়ে এবং দৃশ্যটি খুবই ভয়াবহ ছিল।
৫৭ বছর বয়সী আলেজান্দ্রো আরেডোন্ডো বলেন, ‘অনেক বাসিন্দাই আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কারণ তারা সমুদ্র সৈকতে চলে গিয়েছিলেন।’
গতকাল রোববার সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, লিরকেন শহরের রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছিল।
কঠোর কারফিউর মধ্যেও কিছু বাসিন্দা টর্চলাইট হাতে নিয়ে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার ও আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
সূত্র : বাসস



