মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবার থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হবে।
শনিবার (৩১ মে) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পেনসিলভানিয়ার পিটার্সবার্গে এক সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এ পদক্ষেপ স্থানীয় ইস্পাত শিল্প ও জাতীয় সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, একইসাথে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ইউএস স্টিল ও জাপানের নিপ্পন স্টিলের মধ্যে একটি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ইস্পাত উৎপাদনে ১৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। যদিও তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, এখনো চূড়ান্ত চুক্তিটি তিনি দেখেননি বা অনুমোদন করেননি।
ইস্পাত কর্মীতে পরিপূর্ণ জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো ছাঁটাই হবে না, কোনো আউটসোর্সিং করা হবে না এবং প্রত্যেক মার্কিন ইস্পাতকর্মী খুব শিগগিরই পাঁচ হাজার ডলার বোনাস পাবেন।’
যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে ইস্পাত শ্রমিকদের একটি প্রধান উদ্বেগ ছিল জাপান কিভাবে শ্রমিক ইউনিয়নের বেতন ও নিয়োগ-সংক্রান্ত চুক্তি মানবে তা নিয়ে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী ইউএস স্টিলকে ‘বাঁচিয়েছেন’। তিনি ইস্পাত আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলেন এই যুক্তিতে যে ইউএস স্টিলের টিকে থাকার জন্য এ শুল্ক জরুরি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং চীন, ভারত ও জাপান বিশ্বে শীর্ষ উৎপাদক হিসেবে অনেক এগিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট স্টিলের প্রায় এক-চতুর্থাংশই আমদানি করা হয় আর মেক্সিকো ও কানাডার ওপর এই নির্ভরশীলতা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে।
ট্রাম্প এ ঘোষণা এমন এক সময় দিলেন, যখন তার আরোপ করা আন্তর্জাতিক শুল্ক বৈধ কি-না তা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত শুল্কারোপ বন্ধের নির্দেশ দিলেও আপিল আদালত তা বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছে। তবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ট্রাম্পের শুল্ক এ মামলার আওতাধীন নয়।
কিন্তু এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাজারে অস্থিরতা নেমে এসেছে। বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ বহু দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।



