ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মাদক পাচারকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে গ্রেফতারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলার করেছে দেশটি।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সমালোচক। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনর্নির্বাচিত হয়ে মাদুরো আবারো ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বঘোষিত আড়াই কোটি ডলারের পুরস্কার দ্বিগুণ করবে। তার দাবি, মাদুরো সরাসরি মাদক পাচার কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এই নতুন পুরষ্কারকে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘তার কাছ থেকে এই ঘোষণা আসাতে আমরা অবাক হইনি।’ তিনি বলেন, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের মামলা নিয়ে সৃষ্ট তীব্র সমালোচনা থেকে মরিয়া হয়ে মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন বন্ডি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন সরকার মাদুরো ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। সে সময় মার্কিন বিচার বিভাগ দাবি করেছিল, মাদুরো কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক-এর সাথে মিলে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে কোকেন দিয়ে সয়লাব করে দেয়ার’ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে বন্ডি অভিযোগ করেন, মাদুরো ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগওয়া’ এবং মেক্সিকোভিত্তিক শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্ক ‘সিনালোয়া কার্টেল’-এর মতো গোষ্ঠীর সাথে মিলে কাজ করছেন। ট্রেন দে আরাগওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) ‘মাদুরো ও তার সহযোগীদের সাথে যুক্ত ৩০ টন কোকেন জব্দ করেছে। এর মধ্যে প্রায় সাত টন সরাসরি মাদুরোর নিজের সাথে সম্পর্কিত’।
তবে মাদুরো এর আগে মাদক পাচারের সাথে তার সরাসরি জড়িত থাকার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা মাদুরো ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের স্থলাভিষিক্ত হন। তার বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলায় বিরোধী গোষ্ঠী ও ভিন্নমতকে দমনের অভিযোগ আনা হয়েছে অনেকবার।



