ভেনিজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার একটি গবেষণা চুল্লি থেকে সাড়ে ১৩ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গোপন অভিযানে সরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্র-ভেনিজুয়েলা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলার একটি গবেষণা চুল্লি থেকে উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কারাকাসের সেই চুল্লি থেকে সাড়ে ১৩ কেজি ইউরেনিয়াম জব্দ করা হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ সরিয়ে নেয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতার সাথে স্থল ও সমুদ্রপথে সম্পন্ন করা হয়।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানকে ওয়াশিংটনের ভাষায়, ‘সবার জন্য বিজয়’ হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন জাতীয় পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থার প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস দাবি করেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে এক নতুন ও পুনর্গঠিত ভেনিজুয়েলার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি কেন্দ্র থেকে এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি বিশেষ কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর থেকে কারাকাসের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং দেশটিতে মার্কিন জ্বালানি ও খনিজ ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। দীর্ঘ সাত বছর পর সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং মার্কিন দূতাবাসও খুলেছে। ভেনিজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের দিকে মার্কিন ব্যবসায়ীদের নজর থাকলেও ট্রাম্পের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানে সেখানকার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সূত্র : গার্ডিয়ান