মেক্সিকোতে গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৮

মেক্সিকো সিটির মেয়র বলেছেন, বিস্ফোরণে ৯৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চালকসহ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মেক্সিকো সিটিতে একটি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। এতে আহত হয়েছেন আরো প্রায় ৯০ জন।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা সাংবাদিকদের বলেছেন, বিস্ফোরণে ৯৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চালকসহ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

মেক্সিকো সিটি থেকে এএফপি জানিয়েছে, একটি গ্যাস ট্যাঙ্কার হাইওয়ে ওভারপাসের নিচে পড়ে গেলে আগুন ধরে যাওয়ার পর এই বিস্ফোরণ ঘটে।

গত বুধবার ঘনবসতিপূর্ণ ইজতাপালাপা এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ব্যস্ত মহাসড়কে আগুন ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশপাশের যানবাহন পুড়ে যায় এবং অনেকেই গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।

প্রসিকিউটররা জানান, সম্ভবত অতিরিক্ত গতির কারণে ১৩ হাজার গ্যালনেরও বেশি তরল গ্যাস বহনকারী গাড়িটি উল্টে যায়। এর ফলে দুই ডজনেরও বেশি গাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ‘শক্তিশালী বিস্ফোরণের মুহূর্তটি দেখানো হয়েছে’। এতে গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় লোকজনকে দেখা গেছে। অন্যদিকে দুর্যোগ অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা অন্যরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিস্ফোরণে বেশকিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি।

জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টারে করে কিছু হতাহতকে সরিয়ে নেয়া হয়। এই সময়ে সেখানে কয়েকশ’ স্বাস্থ্য কর্মী ও সৈন্য জড়ো হয়েছিলেন।

প্রাথমিক তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ট্রাকটির অপারেটিং পারমিট যথাযথ ছিল না। একটি ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, তারা গাড়ির মালিকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বীমা নীতি পায়নি।

মেক্সিকোতে প্রায়ই জ্বালানি ট্রাক ও হাইড্রোকার্বন অবকাঠামোর সাথে সম্পর্কিত বিপর্যয় ঘটে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হিডালগোর কেন্দ্রীয় রাজ্যের ত্লাহুয়েলিলপান শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। তখন লুটপাটের সময় পাইপলাইনে আগুন ও পরবর্তী বিস্ফোরণে ১৩৭ জন নিহত হয়।

সূত্র : বাসস