আইনে পরিণত হলো ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’

পিকনিকের সময় বিলটি পাস হওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি তার স্ত্রী মেলানিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে স্বাক্ষরিত সবচেয়ে জনপ্রিয় বিল। আমরা যা করেছি তা হলো সবকিছুকে একটি বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘বিগ বিউটিফুল বিলে’ স্বাক্ষর করেন
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘বিগ বিউটিফুল বিলে’ স্বাক্ষর করেন |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক পিকনিকে ‘বিগ বিউটিফুল বিলে’ স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা এখন আইনে পরিণত হয়েছে। এতে ধনীদের জন্য বড় অঙ্কের কর ছাড়ের পাশাপাশি কম আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট এসেছে। একইসাথে বেড়েছে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ।

পিকনিকের সময় বিলটি পাস হওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি তার স্ত্রী মেলানিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে স্বাক্ষরিত সবচেয়ে জনপ্রিয় বিল। আমরা যা করেছি তা হলো সবকিছুকে একটি বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা। আমাদের আগে কখনো এমন কিছু হয়নি।’

বিলটি পাশ হওয়ার আগের দিন আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা যা কিছু নেতিবাচক বলছে, সবই ধোঁকাবাজি। এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্মদিনের উপহার।’

কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর, বিলটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পাশ হয়। পরে বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে এটি ২১৯-২১৩ ভোটে পাশ হয়। মাত্র দুইজন রিপাবলিকান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থীদের বহুদিনের দাবি পূরণের সুযোগ তৈরি করেছে।

আইন অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিপস, অতিরিক্ত সময়ের মজুরি এবং গাড়ি ঋণের সুদের ওপর অস্থায়ী কর অব্যাহতি। তবে গবেষণা সংস্থা সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ বলছে, কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাচ্ছেন দেশের সবচেয়ে ধনী শ্রেণি। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘এই বিল কার্যকর হলে আমাদের দেশের অর্থনীতি রকেটের গতিতে এগোবে।’

তবে আইনটি কম আয়ের ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকএইড এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে। গবেষকদের হিসাবে, এতে এক কোটি ১৮ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন এবং ৮০ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা প্রকাশ্য ডাকাতি। রিপাবলিকানরা গরিবদের পকেট কেটে ধনীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।’

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান