ভেনিজুয়েলার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন

তারা পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সংলাপের নতুন ধাপ শুরু করতে চায়। এই সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক ও লাভজনক হবে বলে তারা আশাবাদী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম |সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ দু’টি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

সম্প্রতি ভেনিজুয়েলা সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম। তার দুই দিনের এই সফর শেষ হওয়ার পরপরই সম্পর্ক উন্নয়নের এ ঘোষণা এলো। মূলত ভেনিজুয়েলার বিশাল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই ছিল এ সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ‘কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হলে ভেনিজুয়েলায় স্থিতিশীলতা বাড়ানো, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা আরো সহজ হবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের এই সম্পৃক্ততার লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে এমন একটি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া, যার মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে।’

ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সংলাপের নতুন ধাপ শুরু করতে চায়। এই সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক ও লাভজনক হবে বলে তারা আশাবাদী।

মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ন্যাশনাল এনার্জি ডমিন্যান্স কাউন্সিল’-এরও প্রধান। তিনি জানান, কারাকাস থেকে তিনি বিশেষ আশ্বাস পেয়েছেন যে ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকার সেখানে বিদেশী খনি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সফরকালে বার্গাম ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে বৈঠক করেন।

তিনি জানান, কয়েক ডজন বিদেশী কোম্পানি ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। বার্গাম আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৬ সালের মধ্যে ভেনিজুয়েলা তাদের তেল ও গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনই কার্যত ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: বাসস