চার্লসের নাম ভাঙিয়ে ইরান ইস্যুতে নতুন চাল দিলেন ট্রাম্প!

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্রিটিশ রাজা চার্লস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছেন, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, এটি মূলত সরকারের নীতির প্রতিফলন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের এক জমকালো ভোজসভায় গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্রিটিশ রাজা চার্লস ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ঘোর বিরোধী এবং এই বিষয়ে তিনি নাকি ট্রাম্পের চেয়েও বেশি কট্টর অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে আবারো তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে বোমা ফাটানো বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য লন্ডনের রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক পাড়ায় বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

তবে বাকিংহাম প্যালেস বেশ সতর্কতার সাথে এর জবাব দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়েছে, ব্রিটিশ সরকার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত রাখার যে দীর্ঘদিনের অবস্থান নিয়েছে দেশটির রাজা স্বাভাবিকভাবেই সেই নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ব্রিটেনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজার ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বাইরে প্রকাশ করা মানা। কিন্তু ট্রাম্প তো আর নিয়ম মেনে চলার লোক নন। তিনি আবারো প্রমাণ করলেন যে প্রথা ভাঙাই তার আসল কাজ।

আসলে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত আর কতটা নাটকীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ট্রাম্প যখন বলেন যে রাজা তার সাথে একমত, তখন বুঝতে হবে তিনি এর মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকেই জোরাল করতে চাইছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময়ই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে বিশ্বাসী। এখন তিনি যদি দেখাতে পারেন যে ব্রিটেনের রাজা তার এই কট্টরপন্থার সহযোগী, তবে আন্তর্জাতিক মহলে তার গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ট্রাম্প সবসময় নির্ভরযোগ্য বক্তা নন।

তিনি প্রায়শই অতিরঞ্জিত কথা বলতে পছন্দ করেন। রাজা হয়ত সাধারণ সৌজন্যবশত ইরান প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, যা ট্রাম্প নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে জনসমক্ষে প্রচার করে দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজার এই নাম জড়িয়ে কি মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসবে? সম্ভবত না। কারণ রাজা যদি এমন কিছু বলেও থাকেন, তা মূলত ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘদিনের চলে আসা কৌশলেরই প্রতিফলন। ব্রিটেন বা তার মিত্ররা অনেক আগে থেকেই চায় না যে ইরান পারমাণবিক শক্তিতে বলীয়ান হোক। এর জন্য তারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা কূটনীতির পথে হেঁটেছে। কিন্তু এই নীতির সমর্থন করা আর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামা- দু’টি একদম আলাদা বিষয়।

ইরান বারবার বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট করেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য, তারা কোনো মারণাস্ত্র তৈরি করতে চায় না। আসল বিতর্কটা হলো এই দাবিকে কিভাবে যাচাই করা হবে বা কতটা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে তা নিয়ে।

এই পুরো ঘটনাটি আসলে ট্রাম্পের এক ধরনের কূটনৈতিক চাল ছাড়া আর কিছুই নয়। ট্রাম্প জানেন কিভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হয়। ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কথা বাইরে না আনার যে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে, ট্রাম্প তা এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন। তবে এতে ইরানের অবস্থানে খুব একটা হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরান তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে অবিচল রয়েছে।

ট্রাম্পের এই মুখরোচক গল্প হয়তো পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমে কয়েকদিন মুখর থাকবে, কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে ইরানের ওপর এর বড় কোনো প্রভাব ফেলার সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত এটি ট্রাম্পের আর একটি প্রথা ভাঙার গল্প হিসেবেই থেকে যাবে।

সূত্র : বিবিসি