চিলিতে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ ঝড়ে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বর্তমানে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবা স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
গত ১৫ জুলাই চিলির দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হওয়া এই ঝড় পরে দেশটির সাধারণত শুষ্ক থাকা কোকুইম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এসব এলাকায় এ ধরনের অতিবৃষ্টি খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা।
চিলির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সেনাপ্রেডের পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।’
সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় দুই হাজার ৮০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পাহাড়ি ঢল, নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়া এবং পানি ও কাদায় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি শহর ও জনপদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কোকুইম্বোর স্থানীয় এক কমিউনিটি নেতা প্যাট্রিসিয়া আলবর্নোজ বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমার বয়স ৫৭ বছর। জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় ছিল নদী ও খালের পানি উপচে পড়ার দৃশ্য।’
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লদিও আলভারাদো জানান, বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, নদী ও খালের পানি এখনো বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকায় ঝুঁকি রয়ে গেছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সোমবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত।
সূত্র: বাসস



