ফুটবল বিশ্বকাপ

ফিলিস্তিনি পতাকায় মার্কিন থাবা, গ্যালারিতে তবুও সংহতির জোয়ার

ফিলিস্তিন এবারের বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও আরব দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের হাত ধরে গ্যালারিজুড়ে উড়েছে তাদের পতাকা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়ামগুলোতে ঢোকার সময়ই এক অদৃশ্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও বর্ণবাদী শ্যেনদৃষ্টির মুখোমুখি হতে হয়েছে সমর্থকদের।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের গ্রুপ 'জি'-এর ম্যাচ শুরুর আগে এক ইরানি সমর্থক ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াচ্ছেন
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের গ্রুপ 'জি'-এর ম্যাচ শুরুর আগে এক ইরানি সমর্থক ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াচ্ছেন |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বুকভরা দরদ আর সংহতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে তাদের জাতীয় পতাকা। কিন্তু মার্কিন মুলুকের স্টেডিয়ামগুলোতে ফিলিস্তিনের এই স্বাধীনচেতা প্রতীককে বারবার নিশানা করা হয়েছে, সমর্থকদের বাধ্য করা হয়েছে পতাকা নামিয়ে রাখতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কেড়েও নেয়া হয়েছে। ফিফার নিয়ম মেনে স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর স্পষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন নিরাপত্তা প্রহরীদের এমন আগ্রাসী আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্ববাসী।

মিডিলইস্ট আই জানিয়েছে, ফিলিস্তিন এবারের বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও আরব দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের হাত ধরে গ্যালারিজুড়ে উড়েছে তাদের পতাকা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়ামগুলোতে ঢোকার সময়ই এক অদৃশ্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও বর্ণবাদী শ্যেনদৃষ্টির মুখোমুখি হতে হয়েছে সমর্থকদের। ওকল্যান্ডের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সংগঠক মাইসা মোরার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে বলেন, ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো যাবে কি না, তা নিয়ে ফিফার ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থানের কারণেই মার্কিন নিরাপত্তা রক্ষীরা সাধারণ সমর্থকদের হেনস্থা করার সাহস পেয়েছে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ও বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট ওমর দ্রেইদি লেভিস স্টেডিয়ামে এমন এক হয়রানির শিকার হন। কাঁধে ফিলিস্তিনি পতাকা জড়িয়ে থাকায় নিরাপত্তা রক্ষী তাকে বাধা দেয়। তবে ফিফার নিয়ম জানা থাকায় দ্রেইদি কড়া প্রতিবাদ করেন। আলজেরীয় সমর্থকসহ আশেপাশের সাধারণ মানুষও তার সমর্থনে এগিয়ে এলে মার্কিন রক্ষীরা শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। দ্রেইদি জানান, তার মতো সবাই সৌভাগ্যবান ছিলেন না; অধিকার জানা না থাকায় অনেকের পতাকাই মার্কিন স্টেডিয়ামে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই বৈষম্য ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতিকে আবারো নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকে নিমেষেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় ইসরাইলের চালানো নারকীয় গণহত্যার পরও যুদ্ধাপরাধী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ ইসরাইলকে বহাল তবিয়তে খেলতে দেয়া হয়েছে। এমনকি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু নিউ জার্সির ফাইনাল ম্যাচে হাজির হতে পারেন বলেও গুঞ্জন উঠেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুকে টেনে নিয়ে ফিফা ফুটবলের ইতিহাসকে বিতর্কিত করেছে।

এরপরও মার্কিন ও ইসরাইলি সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে সাধারণ মানুষ ঠিকই ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে। মাইসা মোরার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, 'স্টেডিয়ামের আনাচে-কানাচে মানুষ যেভাবে ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ ও পতাকাকে জড়িয়ে ধরেছে, তাতে প্রমাণিত হয়—বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষ গাজার এই গণহত্যার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের পাশেই আছে।'