যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকার (ভিওএ) প্রায় ৫০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউস সংবাদমাধ্যমটিকে ‘উগ্রপন্থী’ বলে অভিযুক্ত করে আসছে এবং এর কার্যক্রম সীমিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভিওএ-এর মূল সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার (ইউএসএজিএম) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারি লেক বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল আমলাতন্ত্র হ্রাস করতে, অ্যাজেন্সি পরিষেবা উন্নত করতে এবং মার্কিন নাগরিকদের কষ্টার্জিত অর্থ আরো সাশ্রয় করতে সহায়তা করবে।’
তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণা মোকাবেলা করার জন্য ভিওএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সম্প্রচারমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
ইউএসএজিএম জানিয়েছে, মোট ৫৩২টি পদ বিলুপ্ত করা হবে। এর মধ্যে অধিকাংশই ভয়েস অফ আমেরিকার। এতে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০৮ জন কর্মী অবশিষ্ট থাকবেন। আদালতে দাখিল করা নথিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, জুন মাসে ক্যারি লেক ঘোষণা করেছিলেন, ৬৩৯ জন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে। তবে কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে পরে নোটিশগুলো বাতিল করা হয়েছিল। কিছু কর্মচারী চাকরিচ্যুতি আটকাতে মামলাও দায়ের করেছিলেন।
আদালতের এক রায়ের পরপরই গত শুক্রবার রাতে নতুন করে এই ঘোষণা আসে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ভয়েস অফ আমেরিকার পরিচালক মাইকেল আব্রামোভিটজকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। আদালত লেককে আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ারও নির্দেশ দেন।
ভিওএ বন্ধ করার প্রচেষ্টা ঠেকাতে একদল কর্মচারী এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা লেকের ধারাবাহিক আক্রমণকে ঘৃণ্য মনে করছি। আমরা তার জবানবন্দির অপেক্ষায় রয়েছি, আমরা দেখতে চাই যে ভিওএ ভেঙে দেয়ার পরিকল্পনা কংগ্রেসের কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি-না। এখনো পর্যন্ত আমরা এর কোনো প্রমাণ দেখিনি, এবং তাই আমরা আইনের অধীনে আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
গত মার্চ মাস থেকে ভিওএ-এর বেশিভাগ সাংবাদিক প্রশাসনিক ছুটিতে রয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের ভিওএ-কে বন্ধ করার প্রচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের শামিল এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেবে। প্রশাসন বরাবরই ভয়েস অফ আমেরিকাকে ‘ট্রাম্পবিরোধী’ ও ‘উগ্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে।



