ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রধানমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল ভেনেজুয়েলা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও ভেনেজুয়েলা মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রধানমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলা। ক্যারিবিয়ান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ভেনেজুয়েলা।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারকে অবাঞ্ছিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাথে বিরোধে জড়িয়েছেন। এজন্য দেশটিতে তার প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

একদিন আগে এই সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে, প্রধানমন্ত্রী কমলা সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘তারা কেন ভাববে যে আমি ভেনেজুয়েলায় যেতে চাইব?’

ভেনেজুয়েলা ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাকো মাত্র ১১ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ছোট উপসাগর দিয়ে বিভক্ত। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশ দুটি মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী গঠন এবং মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে বোমা হামলার প্রশংসা করা কয়েকজন ক্যারিবীয় নেতার মধ্যে কমলা প্রসাদ-বিসেসার একজন।

২ সেপ্টেম্বর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণার পরপরই তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ দেশের সাথে আমিও খুশি যে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের মিশনে সফল হচ্ছে। পাচারকারীদের প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি নেই। মার্কিন সেনাবাহিনীর উচিত তাদের সবাইকে সহিংসভাবে হত্যা করা।’

কিন্তু তার এই অবস্থানের কারণে তিনি মাদুরোর সরকারের সাথে মতবিরোধে জড়িয়েছেন। এই সপ্তাহেই ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বলেন, মার্কিন হামলা ‘আমাদের ওপর একটি অবৈধ ও সম্পূর্ণ অনৈতিক সামরিক হুমকি’।

আইনবিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে তুলনা করে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এ পর্যন্ত ১৪টি সমুদ্রগামী নৌযানে ১৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব নৌযানের বেশিভাগই ছোট নৌকা।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৭ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি মাদক পাচারের সাথে তাদের জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা