ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তেল খাতে পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৬ সালে দেশটি ১৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেতে যাচ্ছে। এটি ২০২৫ সালের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।
কারাকাস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, রদ্রিগেজ বলেন, জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণের কয়েক দশকের অবসান ঘটাতে একটি বিল সংসদে গৃহীত হলে, ২০২৫ সালের তুলনায় তেল খাতে বিনিয়োগ ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি দাবি করেন, ‘গত বছর বিনিয়োগ প্রায় ৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল এবং চলতি বছরের জন্য ১৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রদ্রিগেজ তার স্থলাভিষিক্ত হন।
তেল খাতকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত জনপরামর্শ সভায় ব্যবসায়ী মহলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় (প্রমাণিত) তেল মজুদের দেশ থেকে আমাদের উৎপাদনের দিক থেকেও এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হতে হবে।’
অর্ন্তবতী এই নেতা ভেনিজুয়েলার সমৃদ্ধ অপরিশোধিত তেলক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে প্রবেশাধিকার দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে রয়েছেন। মাদুরোর পরিবর্তে রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় বসতে সমর্থন দেন ট্রাম্প। শর্ত ছিল, তিনি ট্রাম্পের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন।
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন ২০০০-এর দশকের শুরুতে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসে এবং ২০২০ সালে ইতিহাসের সর্বনিম্ন দৈনিক তিন লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এরপর থেকে উৎপাদন আবার বেড়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় পরিষদে থাকা হাইড্রোকার্বন বিল অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত বেসরকারি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সাথে যৌথ উদ্যোগে না গিয়েও তেল উত্তোলন করতে পারবে। এতোদিন পিডিভিএসএ যৌথ উদ্যোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা দাবি করতো।
আইনপ্রণেতারা গত সপ্তাহে প্রথম পাঠে বিলটি অনুমোদন করেছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাসস



