হন্ডুরাসের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সালভাদর নাসরালা গত ৩০ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা স্থগিত থাকার আড়ালে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছেন।
এর আগে ক্ষমতাসীন বামপন্থী লিব্রে পার্টি সম্পূর্ণ ভোট বাতিলের দাবি জানায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে।
গত শুক্রবার থেকে ভোট গণনা স্থগিত থাকলেও সোমবার পুনরায় শুরু হয় এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়।
দেশটির জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল (সিএনই) জানায়, ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি অ্যাসফুরা পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। তার বিপরীতে লিবারেল পার্টির নাসরালা পেয়েছেন ৩৯ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট।
নাসরালা সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এটা চুরি।
দু’জনই তৃতীয় স্থানে থাকা লিব্রে পার্টির প্রার্থী রিক্সি মনকাদা’র চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটিপূর্ণ হাজারো ভোট এখনো পর্যালোচনা বাকি রয়েছে।
নাসরালা দাবি করেন, দুর্নীতিবাজরা ভোট গণনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে।
গত রোববার রাতে লিব্রে পার্টি ভোটের ফলাফল ‘সম্পূর্ণ বাতিল’ দাবি করে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং সরকার পরিবর্তনে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানায়।
ক্ষমতাসীন দল আরো ঘোষণা করেছে, তারা ১৩ ডিসেম্বর বিশেষ সমাবেশ করবে। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
হন্ডুরাসের আইনে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণার জন্য সিএনই’র হাতে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প সাবেক হন্ডুরান প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা হার্নান্দেজ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক-পাচার মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।
২০২৩ সালে হন্ডুরাস তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল ইন্টারপোলকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন, হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন।
লিব্রে পার্টি এক্স-এ লিখেছে, আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হন্ডুরাসের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও চাপ প্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানাই।
সূত্র : এএফপি/বাসস



