কিউবায় আবারো বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়, বিদ্যুৎ নেই ৫ প্রদেশে

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আংশিক বিপর্যয় হয়। এতে কিউবার ১৫টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পাঁচটি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে
পাঁচটি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে |সংগৃহীত

কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে নতুন করে বিপর্যয় দেখা দেয়ায় শনিবার রাজধানী হাভানাসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকার হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি ইউএনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২২০৭) জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আংশিক বিপর্যয়ে কিউবার ১৫টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

কিউবা বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিস্ট শাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে অবরোধ আরোপ করলে সঙ্কট আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

ইউএনই জানিয়েছে, জ্বালানির তীব্র সঙ্কটের কারণে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একইসাথে ডিজেলচালিত জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো চালু রাখাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাভানায় অনেক এলাকায় টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কোথাও কোথাও কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনাও ঘটেছে। প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের এই দ্বীপে রাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সঙ্কট দিন দিন আরো প্রকট হয়ে উঠছে।

চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কিউবায় পাঁচবার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসেই মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনবার পুরো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০ বার দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে সম্পর্ক আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে ফেডারেল আদালতে অভিযোগের মুখোমুখি করার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো বেড়ে যায়।

মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্র কেবল একটি রুশ তেলবাহী জাহাজকে কিউবায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। মার্চ মাসে আসা ওই জাহাজে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ছিল। তবে সেই মজুত ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

জ্বালানি অবরোধের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে। এর ফলে অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠান দেশটিতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এছাড়া প্রায় তিন দশক আগে দু’টি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রয়াত বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত জুনের শেষ দিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’।

সূত্র: বাসস