ভেনেজুয়েলার নৌকা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ১১

ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে আকাশ থেকে ধারণ করা ড্রোন ফুটেজে সমুদ্রে একটি স্পিডবোট বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে জ্বলতে দেখা যায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস স্যাম্পসন ২
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস স্যাম্পসন ২ |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলা থেকে আসা সন্দেহভাজন মাদকবাহী একটি নৌকায় মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পর এটিই প্রথম অভিযান।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মিনিট আগে আমরা একটি মাদকবাহী নৌকা গুলি করে উড়িয়ে দিয়েছি। এতে পিুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ছিল। আরো অনেক আসছে, আমাদের দেশে অনেক মাদক ঢুকছে। এগুলো মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে আসছে।’

পরে তিনি তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে আকাশ থেকে ধারণ করা ড্রোন ফুটেজে সমুদ্রে একটি স্পিডবোট বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে জ্বলতে দেখা যায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই হামলার ফলে ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষতি হয়নি।’

তিনি দাবি করেন, নিহতরা ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র সদস্য। এই গ্যাংকে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার যোগাযোগমন্ত্রী ফ্রেডি ন্যানেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেন, ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তবে রয়টার্স ভিডিওটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করে কোনো কারসাজির প্রমাণ পায়নি। পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন হামলার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। নৌকায় কী ধরনের মাদক ছিল, কত পরিমাণ ছিল কিংবা কিভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প তার মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে সাতটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন পাঠিয়েছেন। এগুলোতে চার হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন নৌসেনা ও মেরিন রয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স