গ্রিনল্যান্ড দখলে ‘সহজ-কঠিন’ দু’-পথেই এগোবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহজ চুক্তি’ না হলে ‘কঠিন পথেও’ যাবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষা করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার আবারো গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের ইঙ্গিত দেন। স্বায়ত্তশাসিত এই আর্কটিক দ্বীপের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব তিনি কার্যত উপেক্ষা করেন।

হোয়াইট হাউসে তেল খাতের নির্বাহীদের সাথে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব- তারা পছন্দ করুক বা না করুক।’ ওই বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করেছে।

গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি চুক্তি করতে চাই- সহজ পথে। কিন্তু সহজ পথে না হলে আমরা কঠিন পথেই যাব।’

খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেবো না। আমরা যদি না করি, তারা সেটাই করবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব- হোক তা সুন্দরভাবে, না হলে আরো কঠিনভাবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীন উভয়ই সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। তবে বিশাল বরফাচ্ছাদিত এই দ্বীপের ওপর কোনো দেশই আনুষ্ঠানিক দাবি করেনি।

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুমকিতে ডেনমার্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন হলে ‘সবকিছুর অবসান’ ঘটবে- এর মধ্যে ন্যাটো ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত।

ডেনমার্কের উদ্বেগকে হালকাভাবে নেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনিষ্ঠ মিত্র ২০০৩ সালে বিতর্কিত ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিও আমি অনুরাগী। সত্যি বলতে কী, তারা আমার সাথে খুব ভালো আচরণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু ৫০০ বছর আগে সেখানে তাদের একটি নৌকা ভিড়েছিল- এটাই তো প্রমাণ নয় যে তারা ওই ভূমির মালিক।’

আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সূত্র : বাসস