ইকুয়েডরের সন্দেহভাজন মাদকচক্রের তৃতীয় নৌযান ডুবিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রশান্ত মহাসাগরে ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা একটি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি এ ধরনের তৃতীয় নৌযান ধ্বংসের ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযান চলাচল
প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযান চলাচল |সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা একটি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি এ ধরনের তৃতীয় নৌযান ধ্বংসের ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড।

গত বৃহস্পতিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর একটি অভিযানের অংশ। গত বছর থেকে মাদক পাচারের সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অবৈধ মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি ভাসমান জ্বালানি সরবরাহকারী নৌযান তারা সফলভাবে আটক করে।

সাউদার্ন কমান্ড আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌযানটি ‘লস চোনেরোস’ নামের সহিংস মাদকচক্রের কার্যক্রমে সহায়তা করছিল।

নৌযানটিতে থাকা কয়েকজনকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদে ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে কতজনকে হস্তান্তর করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার ও সামরিক সদস্য বহনকারী একটি নৌযান গিয়ে সন্দেহভাজন নৌযানটিকে আটক করে। পরে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৌযানটি ধ্বংস করা হয়। বিস্ফোরণের পর আকাশে ব্যাপক ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

গত শুক্রবারের পর থেকে ‘লস চোনেরোস’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা তৃতীয় নৌযান এটি, যেটি মার্কিন বাহিনী ডুবিয়ে দিয়েছে। এই অপরাধী চক্রের সাথে মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া কার্টেলের যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ইকুয়েডরের নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন অভিযানে সহায়তা করেছে। ‘কনকুইস্তা-২’ ও ‘ওএম-২’ নামে চিহ্নিত দু’টি নৌযান থেকে মোট ২৮ ক্রু সদস্যকে তারা গ্রহণ করেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যেসব নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সাথে জড়িত ছিল—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইকুয়েডরের আরো তিনটি নৌযানে হামলা চালানোর পর কমপক্ষে আটজন নিখোঁজ হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

গত মার্চে মাদক পাচার মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটে যোগ দেয় ইকুয়েডর। এ অঞ্চলে মাদক পাচার বন্ধ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সূত্র : বাসস