ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হবেন বলে জানা গেছে। ওই দিন মাদুরোর আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগ খারিজের জন্য জোরালোভাবে আবেদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ম্যানহাটনের এই শুনানি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে কারাকাসের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাদুরো ও তার স্ত্রীর আইনি খরচ কে বহন করবে- এই প্রশ্নটি শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেনিজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি খরচ বহন করতে চাইছে। তবে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোলাককে অর্থ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি লাইসেন্স নিতে হবে, যা এখনো দেয়া হয়নি।
পোলাক আদালতে জমা দেয়া এক আবেদনে বলেন, এই লাইসেন্সের শর্ত মাদুরোর সাংবিধানিক আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং এই প্রক্রিয়াগত কারণে মামলাটি খারিজ করা উচিত।
মাদুরো ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ভেনিজুয়েলায় একনায়কতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় ছিলেন এবং গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
বর্তমানে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক মাদুরো একটি ফেডারেল কারাগারে রয়েছেন। কারাগারটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য পরিচিত। তিনি একা একটি সেলে থাকেন এবং সেখানে ইন্টারনেট বা সংবাদপত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ভেনিজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কারাগারের করিডোরে কিছু সহবন্দী তাকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে ডাকেন এবং তিনি বাইবেল পড়েন।
সূত্রটি আরো জানায়, তাকে পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে ফোনে যোগাযোগের অনুমতি দেয়া হয়, তবে প্রতিটি কল সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের জন্য সীমাবদ্ধ।
তার ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, ‘আইনজীবীরা আমাদের জানিয়েছেন তিনি অটল আছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের দুঃখ করা উচিত নয়। তিনি তার বাবার উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, ‘আমরা ভালো আছি, আমরা যোদ্ধা।’
৬৩ বছর বয়সী মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের মাদক পাচারের অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং ৫ জানুয়ারির শুনানিতে নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দী’ বলে ঘোষণা দেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওয়াশিংটন ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ করে কলম্বিয়ার এমন গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর সাথে এবং অপরাধী চক্রগুলোর সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন পাঠানোর কাজে জড়িত ছিলেন।
পোলাক এর আগে বলেছিলেন যে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল প্রাথমিকভাবে ৯ জানুয়ারি তাকে মাদুরো এবং তার স্ত্রী, সহ-অভিযুক্ত সিলিয়া ফ্লোরেসের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিয়ে লাইসেন্স প্রদান করেছিল।
পোলাক বলেন, অথচ তিন ঘণ্টা পর ওএফএসি একটি সংশোধিত লাইসেন্স জারি করে, যাতে তাকে সাবেক ওই প্রেসিডেন্টের পক্ষে অর্থ গ্রহণ করতে বাধা দেয়া হয়।
তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখের এক চিঠিতে আদালতকে বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা সরকারকে মাদুরোর প্রতিরক্ষা খরচ না দেয়ার মাধ্যমে ওএফএসি তার আইনজীবী নিয়োগের সক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকারকে খর্ব করছে।’
তিনি বলেন, তার দল ইতোমধ্যে ওএফএসি-এর কাছে একটি আপত্তি দাখিল করেছে এবং যদি তারা কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তবে তিনি আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন।
তিনি আরো বলেন, মাদুরো অন্যভাবে আইনজীবীর খরচ বহন করতে সক্ষম নন।
সূত্র: বাসস



