যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার (১৯ জুলাই) বলেছেন, ইরান চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে আরো সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠনের (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ফিলিপাইন রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে রুবিও এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ইরানের কিছু মানুষ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেটিকে পুরো বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’
রুবিও আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে এবং করে যাবে। তবে এ দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়। অন্যান্য দেশকেও এগিয়ে এসে সামরিক সরঞ্জাম কিংবা অর্থায়নের মাধ্যমে অবদান রাখতে হবে।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে সেই উদ্যোগ হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং এমন একটি সমঝোতা হতে হবে, যা ইরান আন্তরিকভাবে মেনে চলবে।’
এর আগে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কার্যকর থাকা একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
রুবিও বলেন, ‘তারা যদি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে সেটিকে কার্যকর সমঝোতা বলা যায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, কূটনৈতিক সমাধানের পথের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই উন্মুক্ত। আমরা এর আগে ইরানের সাথে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’
রুবিও বলেন, ‘তবে এটুকু বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। আমরা অতীতেও একাধিকবার ইরানের সাথে আলোচনার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
সূত্র: বাসস



