৮০৮ বন্দি মুক্তির দাবি ভেনিজুয়েলার

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, ‘ডিসেম্বরের আগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মোট ৮০৮ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডেলসি রদ্রিগেজ
ডেলসি রদ্রিগেজ |নয়া দিগন্ত

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দাবি করেছে, গত ডিসেম্বরের আগ থেকে এ পর্যন্ত দেশটি ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল এ সংখ্যার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

চলতি মাসে দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, তার ভারপ্রাপ্ত উত্তরসূরি ডেলসি রদ্রিগেজ বিক্ষোভে অংশ নেয়া বা অন্যভাবে সরকারবিরোধিতার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে রয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ছিল ধীরগতির। তবে ওই দিন হঠাৎ করে ১০০ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপরও অনেক বন্দির স্বজনরা প্রিয়জনের মুক্তির অপেক্ষায় কারাগারের বাইরে অস্থায়ী শিবিরে অবস্থান করছেন।

কারাকাস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, ‘ডিসেম্বরের আগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মোট ৮০৮ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।’

তবে তিনি ঠিক কোন সময়কালকে উল্লেখ করছেন, তা স্পষ্ট নয়। কাবেলোকে পর্দার আড়ালে ক্ষমতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখা হয়।

শুক্রবার ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৬২৬ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তার দাবি, এই মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন মাদুরো নিজেই।

ভেনিজুয়েলার বন্দিদের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ফোরো পেনাল জানায়, তারা ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৩৮৩ জনের মুক্তি যাচাই করতে পেরেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশীও রয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেয়ার পর থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৬৬ জন।

সরকারের ঘোষিত সংখ্যার বিষয়ে ফোরো পেনালের সহ-সভাপতি গনসালো হিমিওব এএফপিকে বলেন, ‘এটি আমাদের ট্র্যাক করা কোনো সংখ্যার সাথেই মেলে না।’

তবে কাবেলো পাল্টা দাবি করে বলেন, ফোরো পেনালের কর্মীদের ‘তালিকা নেই’। তিনি আরো বলেন, ‘এনজিওগুলোর সাথে আমাদের পরামর্শ করার প্রয়োজন নেই।’

ফোরো পেনাল ও অন্য মানবাধিকার সংগঠন বলছে, ভেনিজুয়েলায় এখনো শত শত বিরোধী নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছেন।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি, ৩ জানুয়ারি প্রাণঘাতী বোমা হামলার মাধ্যমে মাদুরোকে গ্রেফতার করার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সক্রিয় রয়েছেন রদ্রিগেজ। তিনি ওয়াশিংটনকে ভেনিজুয়েলার তেলে প্রবেশাধিকার দিতে একাধিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি বলেছেন, তার সরকার ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংলাপ ও সহযোগিতার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে’।