আগামী নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে এবং ২০২৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরসূরি হওয়ার নিজস্ব সম্ভাবনা যাচাই করতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজ শহরে ফিরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
শ্রমজীবী বা মেহনতি মানুষের অঙ্গরাজ্য ওহাইও’র শহর মিডলটাউনের একটি ইস্পাত কারখানায় বক্তব্য দেন ভ্যান্স, যেখানে তার দাদা দীর্ঘ ৪০ বছর কাজ করেছিলেন। এই শহরটি তার ২০১৬ সালের সাড়াজাগানো আত্মজীবনী ‘হিলবিলি এলেজি’-তে বিশেষভাবে উঠে এসেছিল।
বইটিতে একটি অবহেলিত শিল্পাঞ্চলে তার দারিদ্র্যময় শৈশবের গল্প উঠে এসেছে, যা পরবর্তীতে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (এমজিএ) আন্দোলনের জন্ম দেয়। দুই বছর পর ভ্যান্স যদি হোয়াইট হাউসের জন্য লড়াই করেন, তবে এই শিবিরের সমর্থন লাভ করা তার জন্য অপরিহার্য।
তবে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তার কারণে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে- এমন আশঙ্কার মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দলের প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করতেও কাজ করছেন ভ্যান্স।
গত সপ্তাহে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভ্যান্স তার বক্তব্যে কিছুটা মধ্যপন্থি সুর বজায় রাখেন। তিনি নিজের মেহনতি পটভূমির কথা স্মরণ করলেও ট্রাম্পের মতো আক্রমণাত্মক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্য এড়িয়ে যান।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমার দাদার কথা মনে পড়ে, তিনি ওয়েল্ডার হিসেবে প্রায় ৪০ বছর কাজ করতে এই জায়গায় আসতেন।’
একান্ত আলোচনায় ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করা এই ‘একলা চলো’ নীতির অনুসারী ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দাদার চাওয়া ছিল খুবই সাধারণ- যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘আমেরিকাকে যেন কখনো বিশ্বের পাহারাদার হতে বলা না হয়’।
ভ্যান্স আরো যোগ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় করার বিষয়ে অগ্রগতি সাধন করছে। যদিও তার বস ট্রাম্প এসব দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির অভিযোগকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সাজানো মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে ৪২ বছর বয়সী এই নেতা অভিবাসন এবং তথাকথিত ‘ওক’ রাজনীতির মতো ইস্যুতে বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন।
নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠে নামুন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দখলকারী উগ্র বামপন্থীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিন- ‘এটি তোমাদের দেশ নয়। এটি আমাদের দেশ এবং আমরা এর জন্য লড়ে যাব’।
ট্রাম্প যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে তৃতীয় মেয়াদের চেষ্টা না করেন, তবে ২০২৮ সালে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পুরোদমে শুরু হবে।
ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও, তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ‘এমএজিএ’ আন্দোলনের যোগ্য ও মার্জিত উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
তবে রিপাবলিকান পার্টির অনেকেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও এই পদের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
রুবিও অবশ্য জানিয়েছেন ভ্যান্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি প্রার্থী হবেন না। তবে এ সপ্তাহে এমার্সন কলেজ এবং দ্য হিল পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য পাঁচজন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর মধ্যে চারজনের সাথেই মুখোমুখি লড়াইয়ে ভ্যান্সের চেয়ে রুবিও এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও নিজস্ব সঙ্কট বজায় রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যপন্থিরা সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রস্তাবনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পেয়েছে দলটি উগ্র বামপন্থী অংশটি।
সূত্র : বাসস



