পেরুর নির্বাচন কমিশনের প্রধান পিয়েরো করভেট্টো গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা নিয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার পদত্যাগ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে।’
তার পদত্যাগ নির্বাচন সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল পেরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ দেখা যায়।
ভোটের দিন রাজধানী লিমায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে হাজার হাজার মানুষ পরের দিন পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি।
এছাড়া ভোট গণনায় আইনি জটিলতার কারণে দেরি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
প্রথম দফায় ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তবে দ্বিতীয় দফায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী ৭ জুন দ্বিতীয় দফা বা রান-অফ নির্বাচন হওয়ার কথা।
কট্টর রক্ষণশীল সাবেক লিমা মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা দ্বিতীয় স্থানের জন্য বামপন্থী সাবেক মন্ত্রী রবার্তো সানচেজের সাথে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
তিনি নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন এবং ভোট বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে লোপেজ আলিয়াগা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও জালিয়াতির কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল মে মাসের মাঝামাঝি প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
করভেট্টো মনে করেন যে নির্বাচন পরিচালনা সংস্থা (ওএনপিই)) থেকে তার পদত্যাগ করা ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জরুরি’, যাতে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আরো বেশি জনআস্থার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সূত্র : বাসস



