আয়ারল্যান্ডের গলফ রিসোর্টে ট্রাম্পের সফর ঘিরে একদিকে প্রশংসা, অন্যদিকে ক্ষোভ

স্থানীয়দের একাংশ ট্রাম্পের রিসোর্ট থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক সুবিধার প্রশংসা করলেও আয়ারল্যান্ডের অন্যত্র তার সফর নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ট্রাম্প এখনো অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প |ফাইল ছবি

আয়ারল্যান্ডের আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত অপরূপ সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী একটি ছোট্ট গ্রাম ডুনবেগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্য অনেক জায়গার মতো বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা হয় না। এখানে তিনি বরং একজন গলফ রিসোর্টের মালিক, যিনি প্রত্যন্ত এই এলাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছেন বলে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডে আসছেন ট্রাম্প। দুই দিনের সফরে তিনি প্রথমে কয়েক ঘণ্টার জন্য রাজধানী ডাবলিনে থাকবেন। এরপর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ডুনবেগে নিজের মালিকানাধীন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ লিংকস-এ যাবেন। সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট।

কাউন্টি ক্লেয়ারের দুর্গম উপকূলের বিশাল বালিয়াড়ির মধ্যে অবস্থিত এই গলফ কোর্সে টুর্নামেন্টটি দেখতে ৭৫ হাজার পর্যন্ত দর্শক সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট সপ্তাহান্তে টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার ফাইনাল রাউন্ড শেষে তিনি বিজয়ীর হাতে ট্রফিও তুলে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশ ট্রাম্পের রিসোর্ট থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক সুবিধার প্রশংসা করলেও আয়ারল্যান্ডের অন্যত্র তার সফর নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ট্রাম্প এখনো অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত সানডে ইন্ডিপেনডেন্ট, আয়ারল্যান্ড থিংকস-এর এক জরিপে দেখা গেছে, আয়ারল্যান্ডের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ট্রাম্পের এই সফরকে স্বাগত জানাচ্ছেন না।

শনিবার ডাবলিনে ‘ট্রাম্পকে স্বাগত নয়’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। গাজা, অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভকারীরা অংশ নেবেন।

সপ্তাহান্তে ডুনবেগ ও নিকটবর্তী শ্যানন বিমানবন্দর এলাকাতেও বিক্ষোভ হতে পারে।

গত ১৮ মাসে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা এই গলফ কোর্সটিকে দু’বার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডুনবেগের প্রধান সড়কে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম জটিল নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বিবেচিত একটি অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রায় চার হাজার আইরিশ ও মার্কিন নিরাপত্তাকর্মী যুক্ত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সশস্ত্র পুলিশ, স্নাইপার এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তিও থাকবে।

সূত্র : বাসস