উত্তর কোরিয়ার ১৮০০ জনের চাকরির আবেদন আটকাল অ্যামাজন

অ্যামাজনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা সাধারণত সরাসরি কাজ না করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ ব্যবহার করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা এক হাজার ৮০০ জনেরও বেশি উত্তর কোরিয়ানকে তাদের কোম্পানিতে যোগদান থেকে বিরত রেখেছে। পিয়ংইয়ং বিপুল সংখ্যক আইটি কর্মীকে অর্থ উপার্জন ও পাচারের জন্য বিদেশে পাঠায়।

অ্যামাজনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টিফেন শ্মিড গত সপ্তাহে লিঙ্কডইনে এক পোস্টে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা ‘বিশ্বজুড়ে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কাছে আইটি খাতে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন’। গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ার আবেদনপ্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা সাধারণত সরাসরি কাজ না করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ ব্যবহার করে। ল্যাপটপ ফার্ম বলতে যুক্তরাষ্ট্রে রাখা এমন কিছু কম্পিউটারকে বোঝানো হয়, যেগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বা অন্য যেকোনো দেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যা ‘কেবল আমাজনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়’ এবং ‘সম্ভবত পুরো শিল্পখাতজুড়ে ব্যাপকভাবে ঘটছে’। উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের চিহ্নিত করার কিছু লক্ষণ হলো ভুলভাবে ফরম্যাট করা ফোন নম্বর ও জাল শিক্ষাগত যোগ্যতা।

গত জুলাই মাসে অ্যারিজোনার এক নারীকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি উত্তর কোরীয়দের প্রায় ৩০০টি মার্কিন কোম্পানিতে চাকরি পেতে সাহায্য করার জন্য একটি ল্যাপটপ ফার্ম পরিচালনায় সহায়তা করেছিলেন। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করা হয়, যার বড় অংশই উত্তর কোরিয়ার তহবিলে পাঠানো হয়েছিল।

গত বছর সিউলের গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছিল, উত্তর কোরিয়ার অ্যাজেন্টরা লিঙ্কডইন ব্যবহার করে নিয়োগকর্তা ভান করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের কর্মীদের কাছে তাদের প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে।

সূত্র : বাসস