চীন বা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে জবাব দেবে, সে প্রেক্ষাপটে নিজেদের পরমাণু নীতিতে এক বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। নতুন এই পরিকল্পনায় শুধু দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভরসা না করে ছোট পাল্লার কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। মার্কিন মিত্রদের জড়িয়ে কোনো আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে।
পেন্টাগনের পলিসি চিফ এলব্রিজ কোলবি এই পর্যালোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বাহিনীর দায়িত্বে থাকা মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সফরের সময় নেব্রাস্কায় এক রুদ্ধদ্বার সামরিক অনুষ্ঠানে এই প্রস্তাব নিয়ে তিনি কথা বলবেন, এমনটি আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, মিত্রদেশগুলো চীন বা রাশিয়ার হামলার শিকার হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সে বিষয় প্রস্তুত রাখা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সামরিক পদক্ষেপের পরিধি বাড়ানোটাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এনবিসিকে জানান, 'আমাদের নীতি হলো বিশ্বাসযোগ্য পরমাণু বিকল্প হাতে রাখা।' তিনি আরও বলেন, এই কৌশল সংঘাতের সময়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সীমিত করবে না, বরং তাঁর সামনে বাস্তবসম্মত পথ বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করবে। অপর এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এই নীতির ফলে সংকটকালে অল-অর-নাথিং বা 'সব কিংবা কিছুই নয়' ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হবে না ট্রাম্পকে।
কোলবির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের পরমাণু নীতি কেবল দূরপাল্লার ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের হুমকির ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। তাই তিনি ছোট পাল্লার কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই অস্ত্র গোটা একটা শহর ধ্বংস না করে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, 'প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে এমন অস্ত্র তুলে দিতে হবে যেগুলো বাস্তবে ব্যবহার করা সম্ভব। তা না হলে শত্রুপক্ষ মার্কিন হুমকিকে পাত্তা দেবে না।'
তবে এই প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসনে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পরমাণু অস্ত্রের ওপর জোর দিলে সাধারণ যুদ্ধেও এগুলোর ব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
ক্যাপিটল হিলেও এই উদ্যোগের সমালোচনা হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ সংসদীয় সহকারী জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরমাণু নীতিকে শক্তিশালী করার যে অবস্থান, তার সাথে এই সমীক্ষা একেবারেই মেলে না।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক বোমাবর্ষণের পর থেকে আর কোনো যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে যেকোনো পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে আলাদা নজর কাড়ছে।



