যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশ যুক্ত হয়েছে; বাংলাদেশীরা ৫-১৫ হাজার ডলার জামানত দিয়ে নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর থেকে ভিসা নিতে পারবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্ট্যাচু অব লিবার্টি, নিউইয়র্ক
স্ট্যাচু অব লিবার্টি, নিউইয়র্ক |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার উঠলো বাংলাদেশের নামও। অর্থাৎ এবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদেরকেও মোটা অঙ্কের বাড়তি জামানত দিতে হবে। যার পরিমাণ পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথমে ছিল সাতটি দেশ। কিন্তু সাত দিন যেতে না যেতেই সেই তালিকা প্রায় চার গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যাতে আছে বাংলাদেশের নামও।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তালিকা হালনাগাদ করেছে। বর্তমানে এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৩৮টি দেশ।

এই নতুন দেশগুলো ‘ভিসা বন্ড’ কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি চালু হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। তবে যারা পর্যটক বা ব্যবসায়ী হিসেবে ভিসার আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশীদের জন্য তিন বিমান বন্দর

ভিসা বন্ড জমা দিয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন, তাদের জন্য বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বিমানবন্দর তিনটি হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওএস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য এই তিন বিমান বন্দর বরাদ্দ এখন। এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা দেশটি থেকে বের হতে পারবে না।

যদি কেউ অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে বা বের হয়, তাহলে তা বন্ডের নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ হবে এবং বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

কত ডলার বন্ড দিতে হবে?

নিয়ম অনুযায়ী, ওই ৩৮ দেশের নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়ই ঠিক করা হবে বন্ডের পরিমাণ কত হবে। এটি নির্ধারিত হবে তিন ধাপে। পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

কার কত পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবেন ভিসা কর্মকর্তা। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি নির্ধারণ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে যতদিনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যদি বেশি দিন অবস্থান করেন অথবা থেকে যান, আশ্রয় বা অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করতে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য মার্কিন অভিবাসন দফতরে পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কোনো নাগরিক বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি বি১ ও বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়, তাহলেও তাকে এই ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে।

কিভাবে বন্ড জমা নেয়া হবে?

কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে নির্দেশ দেয়ার পরে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ফর্ম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে।

তাদেরকে Pay.gov নামের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে। এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আরো বলা হয়েছে, বন্ড জমা দিতে কোনো তৃতীয়-পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না। মার্কিন সরকারের নিজস্ব সিস্টেমের বাইরে কোনো জায়গায় অর্থ পরিশোধ করলে তার জন্য মার্কিন সরকার দায়ী থাকবে না। আর কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ যদি বন্ড ফি পরিশোধ করেন, তাহলে সেই অর্থও ফেরত দেয়া হবে না।

কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ড জমা দিতে বললে তখন আবেদনকারীকে পেমেন্ট করার একটি সরাসরি লিংক পাঠানো হবে। সেই লিংকে প্রবেশ করে বন্ডের অর্থ জমা দিতে হবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরো জানিয়েছে, বন্ড জমা দেয়া মানেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত না।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় কিউবা, ভেনেজুয়েলা, কঙ্গো,আলজেরিয়া, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়েসহ দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও ভূটানের মতো দেশও রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি