১৯ দেশের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তান ও সোমালিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন নীতিমালার সরকারী স্মারকলিপিতে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ১৯টি দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকরণসহ সব ধরনের অভিবাসন আবেদন স্থগিত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো এমন ১৯ দেশের নাগরিকদের ওপর, যারা এরই মধ্যে আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। এতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ যোগ হলো। যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য।

দেশগুলোর তালিকায় আফগানিস্তান ও সোমালিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন নীতিমালার সরকারী স্মারকলিপিতে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের একজন সদস্য নিহত এবং অন্য একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প সোমালিয়ার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তাদের ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আমরা তাদের আমাদের দেশে চাই না।’

জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে ফেডারেল অ্যাজেন্টদের প্রেরণ করেছেন এবং মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার প্রশাসন প্রায়শই নির্বাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত বৈধ অভিবাসন পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার ওপর কম জোর দিয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত স্মারকে যে ১৯টি দেশকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। এসব দেশের ওপর জুনে সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ, এমনকি প্রায় সম্পূর্ণ প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছিল।

বাকি দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। এই দেশগুলো জুনে আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিল।

নতুন নীতিতে এসব দেশের নাগরিকদের সব আবেদন স্থগিত করা হয়েছে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে, প্রতিটি আবেদনকারীর ওপর সম্পূর্ণ পুনঃপর্যালোচনা চালাতে হবে। প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার বা পুনঃসাক্ষাৎকারও হতে পারে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।

সূত্র : রয়টার্স