ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

বর্তমানে কার্যকর হওয়া ১৪ দফার এই চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের অন্যায় নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে এবং তেহরানও এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শাহবাজ শরিফ ও ডোনাল ট্রাম্প
শাহবাজ শরিফ ও ডোনাল ট্রাম্প |ফাইল ছবি

ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদনে পাকিস্তানের অসামান্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়া এই চুক্তিটি সফল করতে পাকিস্তানের নেতৃত্ব একদম ভেতর থেকে সাহায্য করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’কে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতাদের মানসিকতা ও তাদের চেনাজানার ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নেতৃত্ব নিজেদের গভীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছে। দুই পক্ষের অত্যন্ত কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই জটিল আলোচনা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ব্যাপক প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে এখন অসাধারণ একজন সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন, যাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া চমৎকার। সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীকে শতভাগ সম্মান করেন, যা সত্যিই দেখার মতো একটি সুন্দর বিষয়।

গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই শান্তি আলোচনার নানান অনিশ্চয়তা ও ওঠানামার মুহূর্তে পাকিস্তানের দূরদর্শী ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই চুক্তিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’।

এই ঐতিহাসিক শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সাহায্য করেছিল পাকিস্তান। এরপর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মাটিতেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পর এটিই ছিল মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে এই সঙ্ঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরানও তাদের জ্বালানি-সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, কারণ ওই দেশগুলো মার্কিন হামলাকে সহায়তা করেছিল। এই রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কয়েক মাস বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার পুরোপুরি ধসে পড়েছিল।

বর্তমানে কার্যকর হওয়া ১৪ দফার এই চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের অন্যায় নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে এবং তেহরানও এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক মজুদের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আবারো আলোচনায় বসবে। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরাইলের ক্রমাগত আগ্রাসী ও বর্বর হামলাগুলো আগামী দিনের ফলো-আপ আলোচনার জন্য এখনো একটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন