যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত হোয়াইট হাউজ প্রকাশিত মেডিক্যাল প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির কয়েকজন চিকিৎসক। বিশেষ করে প্রতিবেদনে ওষুধের বিস্তারিত তথ্য ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করায় সমালোচনা করেছেন তারা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য অত্যন্ত ভালো পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসকদের একটি অংশের মতে, প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রতিবেদনে ট্রাম্প যে তিনটি ওষুধ সেবন করেন, তার উল্লেখ থাকলেও ডোজ বা পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের ব্যাখ্যা ছিল, সাধারণ পাঠকের সুবিধা ও প্রাসঙ্গিকতার কথা বিবেচনা করে তথ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
তবে এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. জোনাথন রেইনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ওষুধের তালিকা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা প্রত্যাশিত। কী তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
হোয়াইট হাউজের দাবি, প্রতিবেদনে কোনো ওষুধ বা পূর্ববর্তী রোগের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকার অর্থ এই নয় যে সেগুলোর চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণ চলছে না। একই সঙ্গে তারা বলছে, পরীক্ষার ফলাফলে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন হয়নি।
তবে কয়েকজন চিকিৎসক মনে করেন, ট্রাম্পের বয়স বিবেচনায় প্রতিবেদনে বর্ণিত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রকমের নিখুঁত বলে মনে হচ্ছে। ভাস্কুলার সার্জন ড. উইলিয়াম শুটজে প্রতিবেদনের কিছু অংশকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর বিভিন্ন পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবেদনে সেগুলোর পরিমাপ ও বিশদ তথ্য অনুপস্থিত। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের হৃদপিণ্ডের বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে ১৪ বছর কম বলে উল্লেখ করায়ও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, সার্জন ড. ড্যানিয়েল টরেন্ট বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত ভালো, যা ট্রাম্পের জীবনযাপন ও বয়স বিবেচনায় অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই নিজের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে চিকিৎসকদের একাংশ মনে করেন, তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য আরও বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া যেত।
সূত্র : ডেইলি বিস্ট



